ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাতা কার্ডের নামে প্রতারণা

ভাতা কার্ডের নামে প্রতারণা
×

 হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাতীবান্ধায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং প্রতারক ‘ভাইবোন চক্রের’ বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

গোতামারী ইউনিয়নের পূর্ব আমঝোল গ্রামের মহিলা খাতুন ও তাঁর ভাই শামসুল আলম গড়ে তুলেছেন ‘ভাইবোন চক্র’। মহিলা খাতুন সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে টাকা সংগ্রহ করেন।
নওদাবাস ইউনিয়নের সদস্য গোপাল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর বিধবা ভাতার সিমকার্ড নিয়ে নিয়মিত টাকা আত্মসাৎ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনওর কাছে ২৬ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গোতামারী গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার ১০ হাজার টাকা ভাতা দেবে বলে মহিলা খাতুন ৬,০০০ টাকা নেন। দুই বছর পার হলেও ভাতা পাইনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।’ ফজিলা খাতুন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গরিবদের ১০ হাজার টাকা অনুদান দেবে–এমন কথা বলে ৩,০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, অথচ এক টাকাও পাইনি।’ নওদাবাস গ্রামের ফরিদা বেগমের কাছ থেকেও গোপাল মেম্বার ৩,০০০ টাকা নিয়েছেন। কোনো কার্ড দেননি। একইভাবে জোহরা বেগমের মানসিক ভারসাম্যহীন বোন রেজিয়ার বিধবা ভাতার নম্বর দেওয়া সিমকার্ডটি এক বছর ধরে মেম্বারের কাছে। তিনি টাকা তুলে নিচ্ছেন, ফেরত চাইলে ধমক দেন।
অভিযুক্ত শামসুল আলম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি। সমাজসেবা অফিসের কাজ শেষ হলে প্রত্যেকের বিকাশে টাকা ঢুকে যাবে।’ তাঁর বোন মহিলা খাতুনও টাকা নেওয়ার কথা মেনে নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্ড করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘হাজার হাজার লোকের কাজ করি, দু-একটা সমস্যা তো হতেই পারে। একেবারে মিথ্যাও না, কিছুটা সত্যতা আছে। এখন অভিযোগ করেছে, আমার করার কিছু নেই।’
ইউএনও দীপজন মিত্র বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘ভাইবোন চক্রের’ বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিতেও তদন্ত চলছে।’’

আরও পড়ুন

×