বিএসটিআইয়ের তদন্ত ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে ৩৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে রংপুর বিএসটিআইসহ ঢাকা থেকে দুটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংগৃহীত দুধের নমুনা ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুলশিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।
মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি জানান, দুধ পানের ১০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পেটে ব্যথা ও বমি করতে শুরু করে। দ্রুত তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সুস্থবোধ করলে সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজনকে এবং মঙ্গলবার বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, দুধটি টক স্বাদের ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। পানের আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি খারাপ হওয়ার কথা জানালেও শিক্ষকরা তা পানের পরামর্শ দেন।
‘রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আশরাফুল আলম বলেন, ‘বাচ্চারা হয়তো খালি পেটে দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একজনকে বমি করতে দেখে প্যানিক হয়ে অন্যরাও অসুস্থবোধ করতে পারে।’
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এমন যুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা গত মার্চ থেকে নিয়মিত এই দুধ খেয়ে আসছে। যদি অ্যালার্জি বা লেকটোজ ইনটলারেন্স থাকত, তবে আগেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। একটি নির্দিষ্ট লটের দুধ খেয়ে একই সময়ে অনেকের অসুস্থ হওয়াটা ভিন্ন বিষয়। তিনি জানান, স্কুলে দুধ সরবরাহের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ভেজা ভাব ছিল। প্যাকেজিংয়ে লিকেজ বা ওই নির্দিষ্ট লটের দুধে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা, তা ল্যাব পরীক্ষাতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার ১৩৮টি স্কুলে ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে একই কোম্পানির দুধ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কেবল তিনটি স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে–মধুপুর স্কুলে ২৭ জন, তুলশিপাড়ায় ৪ জন এবং গোয়ালকারীতে ৩ জন। দুধের মেয়াদ তিন মাস ছিল এবং আগের দিন তা বিতরণ করা হয়। তবে কীভাবে দুধ নষ্ট হলো তা পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে।
এদিকে ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা হয়। সেখানে উঠে আসে যে, স্কুলগুলোতে পচনশীল দুগ্ধজাত পণ্য সঠিক তাপমাত্রায় পরিবহন ও সংরক্ষণ করা বেশ জটিল। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দুধের পরিবর্তে বিকল্প খাবার যুক্ত করার বিষয়টি নীতিগত আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
- বিষয় :
- বিএসটিআই