কাশিয়ানীতে রেলের জমিতে দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঘিরে অনিয়ম ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র লিজ, একই জমি একাধিক ব্যক্তির নামে লিজ, এক ব্যক্তির নামে একাধিক জমি বরাদ্দ এবং লিজের শর্ত ভেঙে স্থাপনা নির্মাণ করে দখলের মাধ্যমে রেলের মূল্যবান ভূসম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলের যথাযথ তদারকি না থাকায় সরকারি সম্পত্তি একদিকে বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে রেল প্রকল্পের জন্য জমি দিয়ে পরিবারগুলো লিজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দখল-বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা গ্রামের কৃষক শহিদুর রহমান সরদার ২০১২ সালে রেলপথ প্রকল্পের জন্য নিজের ৩৪ শতাংশ জমি সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন। ভিটেবাড়ির পাশে থাকা রেলের অব্যবহৃত জায়গায় চাষাবাদ ও ফলদ গাছ লাগিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন তিনি। ওই জমি লিজ পেতে তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কার্যালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আবেদনটি নিষ্পত্তি না করে মাত্র দুই মাসের মধ্যে জমিটি সিরাজুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাপ্তা এলাকায় রেললাইনের পাশের প্রায় ১০ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম।
শহিদুরের অভিযোগ, জমি দখলের সময় বাধা দিলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর লাগানো ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সরকারি নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছি। লিজকৃত জমির গাছ কাটার বিষয়ে আমার বৈধ অধিকার রয়েছে। আমি আরও জমিজুড়ে প্রকল্প করব।’
অন্যদিকে ভাদুলিয়া মৌজার ১২৯৯ নম্বর দাগের ০.২৪ একর জমি নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ঘোনাপাড়া গ্রামের গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস ২০২৪ সালে জমিটি লিজ নেওয়ার পর একই জমি গ্লোরিয়া বিশ্বাস মধু নামে আরেকজনকে লিজ দেয় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ভূসম্পত্তি দপ্তর। এক জমির দুই লিজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মামলা ও পুলিশি হয়রানির ঘটনাও ঘটে।
শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় গোপাল বিশ্বাসের ছোট ভাই নিতাই বিশ্বাসকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে ‘স্প্রে মেকানিক’ পদে চাকরি করতেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিরোধপূর্ণ লিজ বাতিল করা হবে।’
- বিষয় :
- দখল