ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাল খনন করে ময়লার স্তূপ সড়কের পাশে

খাল খনন করে ময়লার স্তূপ সড়কের পাশে
×

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাল খননে তোলা ময়লার স্তূপ। গতকাল বুধবার মাদবরের বাড়ি সড়কে সমকাল

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলার মতো শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে খাল খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর নির্দেশনায় পৌরসভার ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে খাল খননকাজ শুরু করেছে পৌরসভা। তবে খনন করতে গিয়ে ময়লা-আবর্জনা খালসংলগ্ন সড়কে ফেলছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। 

ভেদরগঞ্জ পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়লা-আবর্জনায় খাল ভরাট হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টিতে পৌরসভার এলাকার অধিকাংশ বাসা-বাড়ি তলিয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়তেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বিষয়টি লিখিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানান এলাকাবাসী। পরে সংসদ সদস্য ভেদরগঞ্জ পৌরসভাকে দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলোতে পর্যায়ক্রমে নাব্য ফেরাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালটি খননের কাজ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। 
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাল খনন কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। তবে যেসব স্থানে খনন করা হয়েছে সেখানে কিছু কিছু স্থানে সড়কে খনন করা ময়লা ফেলা হয়েছে। ময়লার স্তূপ অপসারণ না করায় চার দিন ধরে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

এতে দুর্ভোগে পড়ছে সে এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টিতে সড়ক থেকে ময়লা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঢুকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ দেওয়ান বলেন, ‘খালটি দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার কারণে ভরাট হয়ে থাকায় আমাদের সমস্যা হতো। বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানালে এটি পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করে পৌরসভা। এতে আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে খাল পরিষ্কার করে ময়লা-আবর্জনাগুলো রাস্তায় ফেলার কারণে গত চার দিন ধরে কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। এই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে স্কুলে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। আমরা বিষয়টি পৌরসভাকে জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের কথা শোনে না।’ 
বুধবার সকাল ১০টায় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমাদের নানা সমস্যা হতো। খালটি খননের কাজ শুরু হওয়ার কথা শুনে আমরা খুশি হয়েছিলাম। তবে খাল থেকে উত্তোলন করা ময়লা রাস্তায় স্তূপ করে রাখায় বৃষ্টিতে সেই ময়লা পুনরায় খালে গিয়ে পড়ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ খাল খনন করলেও তা স্থানীয়দের কোনো উপকারে আসছে না।’ 
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম জানায়, স্কুলের গাড়ি না আসায় সে চার দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছে না। এ ছাড়া প্রতিদিন বিকেলে বাসার নিচে খেলাধুলা করতে বের হতো সে। রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা রাখার কারণে এখন বাইরে খেলতে পারছে না সে। 
অপর বাসিন্দা রেশমী আক্তার (৩০) জানান, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। এ কারণে তিনি বাজার করার পাশাপাশি বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করেন। পৌরসভার খামখেয়ালির কারণে গত চার দিন ধরে বাসার বাইরে যেতে পারছেন না। অথচ প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ এভাবে ময়লা 
রাস্তায় ফেলে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এটা জীবনে প্রথম দেখলাম। 
ইউএনও এবং ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘সড়কের ময়লা দ্রুত সরিয়ে নিতে পৌরসভার লোকজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে  যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’

আরও পড়ুন

×