ময়মনসিংহে ড্রামে লাশ
আপত্তিকর ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করায় নিরঞ্জনকে হত্যা: পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:২২
গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল করার জেরে ময়মনসিংহে অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণকার নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরকে (৫০) হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক হিসেবে শামীম মিয়া (৩৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।
পিবিআই জানায়, ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের চারটি অটোরিকশা ছিল। শামীম মিয়া তার অটোরিকশার গ্যারেজে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একদিন শামীমের মা-বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি এক নারীকে নিয়ে তার ঘরে ছিলেন। এ সময় নিরঞ্জন গোপনে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের খাগডহরের ভাড়া বাসায় যান নিরঞ্জন। সেখানে টাকা দাবি করা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা একটি ভারী শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে বটি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এরপর লাশ গুম করার জন্য নিরঞ্জনের মরদেহ চটের বস্তায় মুড়িয়ে একটি ড্রামের মধ্যে রাখেন শামীম। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার একটি নির্জন খালে নিয়ে যান। সেখানে ড্রামটি পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যান তিনি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিরঞ্জনের পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের গাছা থানার বোরবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মসলা বাটার শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার শামীমকে আদালতে সোপর্দ করে তার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ড্রামটি ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা প্যান্টের পকেটে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। ওই টোকেনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ
- হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন