ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেকনাফে নাফ নদ ও জেটি ঘিরে পর্যটকের ভিড়

টেকনাফে নাফ নদ ও জেটি ঘিরে পর্যটকের ভিড়
×

জেটি থেকে নাফ নদীর দৃশ্য। ছবি: আব্দুর রহমান

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১২ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪২

টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদের বুকে নির্মিত ৫৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটিকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। নাফ নদ, বঙ্গোপসাগর, দিগন্তজোড়া আকাশ আর ওপারে রাখাইন রাজ্যের পাহাড় আকর্ষণ করছে পর্যটকদের। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও জেটিটি চালু হয়নি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার পূর্ব দিকে সবুজ প্যারাবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিতে দর্শনার্থীদের ভিড়। দর্শণার্থীদের সেখানে ছবি তুলতে এবং ভিডিও বানাতে দেখা যায়। 

এই জেটিই পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। ছবি: আব্দুর রহমান

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার জেটিটি নির্মাণ করলেও এখনো তা চালু হয়নি। তবে এরই মধ্যে জেটিটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। স্থানীয়দের কাছেও জায়গাটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। ফলে পর্যটন ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

নাফ নদে ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজিম উল্লাহ বলেন, ‘পাঁচ বন্ধু মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। সমুদ্রসৈকতে অনেকবার গিয়েছি, তবে নাফ নদে এসে একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর বুক থেকে ওপারে মিয়ানমারের সুউচ্চ পাহাড় দেখার দৃশ্যটি দারুণ উপভোগ করছি।’

এদিকে বঙ্গোপসাগর আর মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষে নাফ নদ ও সমুদ্রের শেষ প্রান্তে শাহপরীর দ্বীপের অবস্থান। এ দ্বীপে দৃষ্টিনন্দন নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ায় পর্যটনের নতুন দুয়ার খুলেছে। এ ছাড়া দ্বীপে জেটিসহ মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের পাড়ে সারি সারি রঙিন নৌকা, পাহাড় আর সবুজ বেষ্টনী পর্যটকদের দিন দিন আকৃষ্ট করছে।

কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থী নুরুল আলম বলেন, ‘পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো টেকনাফে বেড়াতে এসেছি। এর আগে অনেকবার কক্সবাজারে গেলেও শাহপরীর দ্বীপের সৌন্দর্য একেবারেই ভিন্ন। এখানে একই সঙ্গে সমুদ্র, পাহাড় ও নাফ নদ দেখা যায়। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এখানকার তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশ। কক্সবাজারের মতো অতটা ভিড় বা ঘিঞ্জি পরিবেশ নেই।’

এ সময় নাফ নদের তীরে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটের ভ্রাম্যমাণ দোকানি নুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে এখানে দোকান বসিয়ে সংসার চালাচ্ছি। তবে গত তিন বছরে পর্যটকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি আয় হচ্ছে। মূলত নাফ নদ ও ওপারে মিয়ানমারের সুউচ্চ পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।’

রাখাইন পাহাড়। ছবি: আব্দুর রহমান

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, ‘পর্যটকদের কাছে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে টেকনাফের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। এখানে একই সঙ্গে সমুদ্র, পাহাড় ও নাফ নদের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নাফের মাঝপথে শাহপরীর দ্বীপ ও জালিয়াপাড়া সীমান্তের জেটি দুটি স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে জেটিগুলোকে পরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে সাজানো প্রয়োজন।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সরকার এখানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘নাফ নদের মাঝখানে নির্মিত জেটিগুলো এরই মধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেটির মাধ্যমে নদের মাঝামাঝি পর্যন্ত যাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মিয়ানমারের পাহাড়ও দেখা যায়। প্রতিদিনই জেটিতে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ছে। সরকার জেটি দুটি টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করলেও এখন সেগুলো নতুন একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। ফলে আমরাও পর্যটকদের সুবিধার্থে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

×