ডুমুরিয়ায় দুই খালে সড়ক ও স্থাপনা, তবু তালিকায় নেই
তালিমুল খাল দখল করে নির্মিত হয়েছে এই সড়কটি। সম্প্রতি ডুমুরিয়ার বিলপাবলা গ্রামে। ছবি: সমকাল
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২২
খুলনার ডুমুরিয়ায় খননের জন্য তৈরি খালের তালিকা থেকে দুটি খালের নাম বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত শনিবার উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের শত শত মানুষ মানববন্ধন করেন। তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের তৈরি করা তালিকার পাঁচটির খালের মধ্যে দুটিই এ ইউনিয়নের। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এগুলো বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
গুটুদিয়া ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, আবাসন ব্যবসায়ীরা (জমি ব্যবসায়ী) খাল দুটি ভরাট করে রাস্তা তৈরির পর প্লট আকারে দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস সম্প্রতি ওই খালের ১০১৮ ও ১০২২ নম্বর দাগের জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারিও করেছেন। এসব ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬-২০২৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় খননের জন্য গত জুলাইয়ে ডুমুরিয়ার পাঁচটি খালের তালিকা চাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এ সময় তাঁকে সম্ভাব্য খরচও জানাতে বলা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে করা তালিকায় নাম রয়েছে উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের মাডুয়ার খান, কৃষ্ণনগর-নিমতলা খাল, সাহস ইউনিয়নের দোলডাঙ্গার খান এবং গুটুদিয়া ইউনিয়নের মস্তোর মোড় এলাকায় তালিমুল খাল ও খুদে খালের।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, তারা জানতে পেরেছেন পিআইও কার্যালয়ের তালিকা থেকে গুটুদিয়া ইউনিয়নের দুটি খালের নাম বাদ পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই খালগুলো দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য খননের তালিকা থেকে এগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা বললেন, এগুলো খনন করা না হলে আশপাশের এলাকার কৃষিজমি দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে। শত শত পরিবারের বসতভিটায়ও পানি জমে থাকার আশঙ্কা করছেন তারা।
গত শনিবারের মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে এসে উপজেলার কৃষক দলের সদস্যসচিব শাইকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ইউএনও এবং এসিল্যান্ড জমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে খাল দুটিকে খননের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। তারা দখলদারদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন তিনি।
গুটুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম তুহিন বলেন, সরকারি দুইটি খাল প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে জমির ব্যবসা শুরু করছেন। এরমধ্যে দুইটি খাল ভরাট করে রাস্তা ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন। তিনি সরকারি জমি উদ্ধার করে খাল দুটি খননের দাবি জানান।
দুটি দাগের জমি নামজারির বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে দাবি করেন উপজেলা সহকারী (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, পরে ১৫০ ধারার মাধ্যমে নামজারিটি খারিজ করে সরকারের খতিয়ানে আনা হয়েছে। তবে জমিটি দ্রুত উদ্ধার করা হবে।
বক্তব্যের জন্য ইউএনও সবিতা সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। পিআইও মো. আরিফ হোসেন গতকাল রোববার বিকেলে সমকালকে বলেন, গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রণালয় থেকে খাল খননের তালিকা চাওয়া হয়। এরপর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এখনও বরাদ্দ আসেনি। গুটুদিয়ার দুটি খাল বাদ পড়ার কারণ হিসেবে তাঁর ভাষ্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সমন্বয়ে একটি দল খাল দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তারা দেখতে পান, খাল দুটি দখলে রয়েছে। সেখানে পাকা স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে ওই দুটি খাল প্রাথমিকভাবে বাদ দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনও পাঠানো হয়নি।
- বিষয় :
- খুলনা