ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

উঠান থেকে গায়েব শিশু, মৃতদেহ পড়েছিল জঙ্গলে

উঠান থেকে গায়েব শিশু, মৃতদেহ পড়েছিল জঙ্গলে

জঙ্গলে পড়েছিল মৃতদেহ। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয়রদের ভীড়- সমকাল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২১ | ০১:২৩

বাড়িতেই খেলছিল বাকপ্রতিবন্ধী ছোট্ট সানজিদা আক্তার। সাত বছর বয়সী এই শিশুর সঙ্গে কারো শত্রুতা তৈরি হওয়ার কথা না। কিন্তু হঠাৎ উঠান থেকে গায়েব সে। শুধু পড়েছিল দুই লাইনের একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিলো- ‘আপনার মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে ওই নম্বরে যোগাযোগ করেন।’ নিচে একটি ফোন নম্বর লিখে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দারস্থ হলেও উদ্ধার হয়নি শিশুটি। অবশেষে তিনদিন পর শুক্রবার বাড়ি থেকে দুইশ গজ দূরে একটি জঙ্গলে পাওয়া গেছে সানজিদার মৃতদেহ। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দায়।

উপজেলার তারাকান্দা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের হোটেল শ্রমিক শাহজাহান আকন্দের মেয়ে সানজিদা আক্তার (৭)। দুই মেয়ের মধ্যে বড় সানজিদা। বাকপ্রতিবন্ধী সানজিদা কামারিয়া বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো।

মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির উঠান থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। এরপর পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একটি চিরকুট পায়। কিন্তু চিরকুটে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে বুধবার তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার শাহজাহান আকন্দের মুঠোফোনে কয়েকদফা ফোন করে কখনও বিশ হাজার আবার কখনও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয় শিশুটির বাবাকে।

থানায় সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরুর মধ্যেই শুক্রবার সকালে শিশুটির বাড়ির দুইশ গজ দূরে একটি জঙ্গলে পাওয়া যায় নিথর দেহ। জঙ্গলের গাছের ভেতরে শীতের পোশাক ও পায়ে ক্যাটস পরা মৃতদেহ পড়ে ছিল সানজিদার। শেয়ালে একটি হাতের অংশ বিশেষ টেনে হেঁচড়ে নিয়ে গেছে। আরো কিছু স্থানেও টানাটানি করেছে।

স্থানীয়রা শিশুটির মৃতদেহ দেখে পরিবার ও থানায় খবর পাঠান। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শিশুটি বাবা শাজাহান আকন্দ বলেন, আমাদের কোনো শত্রু নেই।  মেয়েকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পুলিশের কাছে সব বিষয় জানিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়েকে বাঁচাতে পরিনি। তিনি আহাজরি করে বলেন, অপহরণকারীদের চাওয়া টাকা না দেওয়ার আমার মেয়ে লাশ হলো।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল। প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধারে তারা চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে কিছু দূরে জঙ্গলে মৃতদেহ পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরে শেয়ালের আক্রমণ ছাড়া আর কোনো আঘাতের চি‎হ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড। তবে কী ভাবে হত্যাকরা হয়েছে ময়নাতদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আরও পড়ুন

×