কক্সবাজারে চেকপোস্টে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত

বাহারছড়ার ১৬ পুলিশের সবাই প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ

সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ

কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সমকালকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। বাহারছড়া ফাঁড়িতে মোট জনবল ছিল ১৬ জন। সবাইকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে ফাঁড়িতে জনবল থাকার কথা ছিল ২১ জন। ৫টি পদ ফাঁকা ছিল।

সিনহা রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার সকালে ধানমণ্ডির বাসায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে কেউ দোষি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বীর হেমায়েত সড়কের মৃত এরশাদ খানের ছেলে। ঢাকার উত্তরায় বাসা ছিল তার।

ঘটনার পর কক্সবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের এমন ভাষ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রত্যক্ষর্শী নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার এক সঙ্গীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যের কিছুটা অমিল রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, কমিটি ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেবে।