ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ক্যাডার’ শব্দ বাদ দেওয়ার চিন্তা

জনপ্রশাসন সংস্কার

‘ক্যাডার’ শব্দ বাদ দেওয়ার চিন্তা
×

লোগো

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ | ০১:১২

সরকারি চাকরিতে ‘ক্যাডার’ শব্দ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। শব্দটি নেতিবাচক হওয়ায় এমন সুপারিশ করা হবে। গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১২তম বৈঠক শেষে জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, প্রশাসন নিয়ে অনেকের আগ্রহ। বিশেষ করে বিসিএসকে (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) মনে করা হয় ক্যাডার। এ শব্দটির সঙ্গে নেতিবাচক কিছু থাকে। এ জন্য সংস্কার কমিশন প্রস্তাব দেবে ‘ক্যাডার’ শব্দটি বাদ দেওয়ার। এর বদলে সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস হেলথ, সিভিল সার্ভিস এগ্রিকালচার বলার সুপারিশ করা হবে।
মোখলেস উর রহমান জানান, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সরকারি কয়েকটি অফিস সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা দেখেছেন। বিশেষ করে এসিল্যান্ড, রেজিস্ট্রি অফিস। এখানে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে যে, কোনো অভিযোগই নেই। সবাই সেখানে দিয়ে যাচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে তাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা যখন গোপালগঞ্জের পাশ দিয়ে যাই দেখি, ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কোনো চিকিৎসক, ছাত্র, নার্স নেই। এ ধরনের ভবন যদি মানুষ ছাড়া পড়ে থাকে, কেমন হয়? সেসব নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ আছে। এসব বিষয়ে সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে সুপারিশ আসবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সঙ্গে কমিশনের মতবিনিময় বাকি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ অনলাইনে কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক নেতাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ‘দোষটা আমাদের বেশি। আমরাই তো টিকিয়ে দিয়েছিলাম সরকার। 

আমি হয়তো ছিলাম না; কিন্তু আমাদের মতো কর্মকর্তারাই তো টিকিয়ে রেখেছেন।’
‘বিসিএস নিয়ে বললেন। তবে ডিসি শব্দটি নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে– সেখানে পরিবর্তন হবে কিনা’ জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এ রকম আমরা অনেক জায়গা পেয়েছি, যেমন জনপ্রশাসন না বলে জনসেবা বলা যায় কিনা, জেলা প্রশাসক ব্রিটিশদের সৃষ্টি। এ শব্দের বাইরে আরও অনেক শব্দ আছে যেমন– কালেক্টর, ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট আছে।
‘শুধু শব্দ পরিবর্তন করে কোনো পরিবর্তন হবে কিনা’ জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, আসলে মানুষের মন ও মস্তিষ্কের পরিবর্তন করতে হবে। এ দুই জায়গার পরিবর্তনটা আগে করতে হবে। সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে পারবেন। ৫২ বছরে এমন ২৩টি সংস্কার কমিশন হয়েছে। কতটুকু সুপারিশ নিয়েছে, আমি আপনি আমরা ভালোই জানি।

কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করব– আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী 
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মানুষের অগ্রাধিকারটা বোঝার চেষ্টা করছি। কাজ ব্যাপক। সে জন্য একটু সময় লাগছে। তিন মাসে এটা করা খুব কঠিন। তবু আমরা চেষ্টা করব।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, আমরা কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করব। যেন এ ধরনের আবহাওয়ার সৃষ্টি না হয়।
আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী আরও জানান, তারা এগোচ্ছেন। তিনটি গ্রুপ করে তাদের কাজটা ভাগ করে নিয়েছেন। ঢাকার বাইরে সাধারণ মানুষের বক্তব্য শোনার জন্য কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।
কমিশনের প্রধান বলেন, আমরা রাজশাহীতে গিয়েছিলাম। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং গণশুনানি করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণ কী চিন্তা করছেন, কী বলছেন, সেটা শোনা। আমরা নাটোরে বৈঠক করেছি। একটা প্রশ্নমালা দিয়েছি। আমরা আরও দুটি প্রশ্ন তৈরি করে দিচ্ছি। এটি আমরা ১০ দিনের জন্য দিচ্ছি। সেখানে একটি প্রশ্ন থাকছে, আপনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কখনও গিয়েছেন কিনা? গেলে আপনার অভিজ্ঞতা কী? যেন মানুষ আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারে। আমরা একই সঙ্গে ছাত্রদের জন্য আলাদা প্রশ্নমালা দিচ্ছি। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, গণশুনানিতে মানুষ একটা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে যে, তিনি সন্তুষ্ট কিনা? ব্যাপক সংখ্যক লোক বলেছেন ‘সন্তুষ্ট না’। তারা যে সন্তুষ্ট না, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে। সন্তুষ্ট নয় বলেই তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে অংশ নেন কমিশনের সদস্য সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক ও মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও সাবেক যুগ্ম সচিব রিজওয়ান খায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ কা ফিরোজ আহমদ, অধ্যাপক সৈয়দা শাহিনা সোবহান বিসিএস (স্বাস্থ্য), ফিরোজ আহমেদ বিসিএস (অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস), খোন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ও ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

 

আরও পড়ুন

×