ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উলিপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ, বিক্ষোভ

উলিপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ, বিক্ষোভ
×

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) ও কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায়।

এলাকাবাসী ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন ধরে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকায় দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। পরে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এক ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। শুক্রবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। এক ঘণ্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখানে থেকে বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকি। অনেকে যথাসময়ে সার পান না। তাদের ধারণা, আমার কারণেই সার পাচ্ছেন না।’

উলিপুর থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, সার সংক্রান্ত বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।’

সারের জন্য ঘুরছেন কয়রার কৃষকরা
খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা দোকানে দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছেন না। এতে আমনের আশানুরূপ ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মৌসুমে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। চলতি মাসে সাতজন সার ডিলারের অনুকূলে ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৩০ টন। এ ছাড়া ডিএপি ৩৫০, এমওপি ১১৫ ও টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ টন। এর মধ্যে দুই কিস্তিতে ডিলাররা বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে ফেলেছেন। চাষাবাদ করা জমি ও কৃষকদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে চলতি মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ৩০০ টন ইউরিয়া ও ২০০ টন এমওপি সার উপবরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। 
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে আমাদি, বাগালি ও মহেশ্বরীপুর তিনটি ইউনিয়নে সার সংকট বেশি। এই তিন ইউনিয়নের ডিলারদের কাছে মজুত নেই বললেই চলে। এসব ইউনিয়নের কৃষকরা সারের জন্য কৃষি অফিসে এসেও ধরনা দিচ্ছেন। অন্য চারটি ইউনিয়নে ডিলারদের কাছে মজুত সার তা দুই-তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।
 

আরও পড়ুন

×