ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই পরিবারের ছয়জনের লাশ উদ্ধার

দুই পরিবারের ছয়জনের লাশ উদ্ধার
×

ফাইল ছবি

মানিকগঞ্জ ও তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৯ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

মা প্রবাসে গেছেন মাত্র তিন দিন। মায়ের অনুপস্থিতিতে রাতে বাবার কাছে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গিয়েছিল তিন শিশু– ১০ বছরের মাওয়া, সাত বছরের শামীম ও দুই বছর বয়সী তামিম। পারিবারিক কলহের জেরে মধ্যরাতে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বাবা সরফত আলী (৩৫); নিজেও পান করেছেন কীটনাশক। 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গতকাল শনিবার মানিকগঞ্জ সদরে দেড় বছরের মেয়ে, স্ত্রীসহ সৌদিফেরত এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তাহিরপুরের ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় সরফত আলী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সরফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। গত শুক্রবার রাতে সরফত তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে চারজনই কীটনাশক পান করেন। পরে সরফত ময়মনসিংহে অবস্থানরত তাঁর এক ফুফুকে মোবাইল ফোনে বিষপানের বিষয়টি জানান এবং কোনো দাবি না রাখার কথা বলেন। তাঁর ফুফু বিষয়টি সরফতের ছোট ভাই রহমত আলীকে জানালে তিনি দ্রুত বাড়িতে ছুটে যান। 

পরে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। 
সরফতের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রতিবেশী উত্তর বড়দল ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আলী হোসেন বলেন, সরফত আলীর স্ত্রী আগেও কয়েক বছর সৌদি আরবে কাজ করে এসেছেন। চার দিন আগে তিনি আবার সৌদি আরবে যান। সরফত মাদকাসক্ত ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই কাণ্ড ঘটাতে পারেন। তাঁর বসতঘরে লিচুর জুসের বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই জুসের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে শিশুদের পান করানো হয়েছে।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ জানান, তিন শিশুর মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। 

ঘরে প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ, পাশে স্ত্রী-শিশুসন্তানের নিথর দেহ 
মানিকগঞ্জ সদরে ঘর থেকে দেড় বছরের সন্তানসহ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি ঘোনাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহতরা হলেন সৌদিপ্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী সানজিদা আক্তার প্রিয়াঙ্কা (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা। প্রিয়াঙ্কা সিংগাইর উপজেলার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে। তিনি ইকরামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন একরাম। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।

একরামের পরিবার জানায়, শুক্রবার রাতে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে একটি চৌচালা টিনের ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা টিনের একটি অংশ ভেঙে ফাঁক দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় একরামকে দেখতে পান। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রিয়াংকার লাশ পড়েছিল ঘরের মেঝেতে, আলিজার খাটে এবং একরামের লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল। 

এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহত প্রিয়াংকার মা আফরোজা বলেন, একরামের অত্যাচারে আগের স্ত্রী চলে গেছে। তিন বছর আগে একরাম প্রিয়াংকাকে বিয়ে করে। প্রিয়াংকা দুই দিন আগে মোবাইল ফোনে বলেছিল– জামাইয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে, এখন বেড়াতে যাব না। 

তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে একরামের বাড়ির লোকজন তাদের হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তিনি জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।

নিহত একরামের ভাই ওষুধ ব্যবসায়ী ওয়াসিম বলেন, তারা চার ভাই সবাই একত্রে রয়েছেন। তিন ভাই বিদেশে থাকেন। দুই মাস আগে মেজো ভাই একরাম দেশে আসেন। অধিকাংশ সময় তিনি ঘরেই থাকতেন। কারও সঙ্গে ভাইয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। রাতে ভাবি খাবার খেয়ে ভাইয়ের জন্য নিয়ে যান। শনিবার সকালে তিনি বাহারিচর বাজারে ফার্মেসিতে যান। দুপুরে তিনি খবর পান বাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা এবং আরেকটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা জানা যাবে।

আরও পড়ুন

×