ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাকা-স্বর্ণের লোভে খুন করে দুই গৃহকর্মী

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা হত্যা

টাকা-স্বর্ণের লোভে খুন করে দুই গৃহকর্মী
×

মাহফুজা চৌধুরী পারভীন -ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১৫:৫৬

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী রুমা ওরফে রেশমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্নিষ্টরা বলছেন, রেশমা ও এর আগে গ্রেফতার গৃহকর্মী রীতা আক্তার ওরফে স্বপ্না মিলে তাকে হত্যা করে। নগদ টাকা ও স্বর্ণের গহনা লুট করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার সুকন্যা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহফুজা চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যায়। পরদিন নিহতের স্বামী ইসমত কাদির গামা বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেন।

বুধবার বিকেলে নিউমার্কেট থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে বুধবার সকালে রেশমাকে গ্রেফতার করা হয়। সে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতার স্বপ্না গত ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মারুফ হোসেন সরদার জানান, দুই গৃহকর্মী ভেবেছিল মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যার পর তারা অনেক অর্থ-গহনা নিয়ে সহজে পালিয়ে যেতে পারবে। তবে তারা তেমন কিছুই পায়নি। যাওয়ার সময় শুধু নগদ সাত হাজার টাকা ও একটি চেকবই নিতে পেরেছিল। মূলত লোভে পড়েই তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে এ ঘটনায় আরও তদন্ত হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্যও অপেক্ষা করছে পুলিশ। হত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তাও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

নিউমার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান সমকালকে জানান, দুই গৃহকর্মীর একজন মাহফুজা চৌধুরীকে চেপে ধরে ও অপরজন মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। দু'জনের স্বীকারোক্তিতে একই তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রেশমা দেড় মাস ও স্বপ্না প্রায় নয় মাস ওই বাসায় কাজ করেছে।

রেশমাকে রোববার গ্রেফতার করা হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না ছাড়াও রুনু ওরফে রাকিবের মা নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। তখন পুলিশ বলেছিল, টাকা ও গহনা লুট ছাড়া হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×