ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থা কমিয়েছে ওমিক্রন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০০:৩৪
ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনার ক্ষতি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬১ শতাংশ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যেই আবার ওমিক্রনের আক্রমণে আগামীর ব্যবসা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আস্থা কমেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের এক জরিপে এমন ফলাফল এসেছে। 'করোনার নতুন ধাক্কা : ব্যবসার আস্থা কোন পথে?'- শিরোনামের জরিপ প্রতিবেদন গতকাল সোমবার প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
গত ৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের আটটি বিভাগের ৩৮টি জেলায় সপ্তম ব্যবসা আস্থা জরিপ জরিপ করে। ৫০২টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে শিল্পকারখানা ২৫২টি এবং বাকি ২৫০টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের টেলিফোনে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপ পরিচালনা করা হয়। করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের জুলাই থেকে প্রতি তিন মাস পর এ জরিপ করে আসছে সানেম। এবারের জরিপে ওমিক্রণের প্রভাবের সঙ্গে দেশের সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতির ওপর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ম্ফীতির প্রভাবও তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের আস্থা আগের প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চেয়ে কমেছে। এর প্রধান কারণ ওমিক্রন। স্কোর কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৯৯। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে স্কোর ছিল ৬০ দশমিক ৬৭। অবশ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা সূচকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৫৪ দশমিক ১৫, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৫২ দশমিক ৩১। গত বছরের এপ্রিল-জুন থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নতির দিকে যাচ্ছিল।
জরিপের তথ্য বলছে, গত বছর মুনাফা এবং বিনিয়োগ বেড়েছে। তবে কর্মসংস্থান এবং মজুরির গতি কিছুটা মন্থর। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কর্মসংস্থানের স্কোর ছিল ৫৪ দশমিক ৩৮। আগের প্রান্তিকে ছিল ৫৪ দশমিক ৩৫। জরিপে খাতওয়ারি বিশ্নেষণে দেখানো হয়, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধসহ প্রায় সব খাতেরই গত প্রান্তিকের ব্যবসা পরিস্থিতি ভালো। তবে বস্ত্র খাত, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের পরিস্থিতি গত প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা খারাপ।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯৭ শতাংশ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খাতে তাদের খরচ বেড়েছে। এ কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এ প্রসঙ্গে ড. সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। এ সিদ্ধান্ত একেবারেই সময়োপযোগী হয়নি। জ্বালানি তেল আমদানির ওপর কর কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে একটি কৌশলগত এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ড. সেলিম রায়হান।
প্রণোদনা পায়নি ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান :জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৪ শতাংশই প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ সুবিধা পায়নি। মাত্র ২৩ শতাংশ এই সুবিধা পেয়েছে। সুবিধা পাওয়া প্রতিতিষ্ঠানগুলোর ৪০ শতাংশ জানিয়েছে, প্যাকেজের অর্থ তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। ৬৫ শতাংশ মনে করে, সরকারের পক্ষ থেকে আরও সাহায্য দরকার। স্বল্প সুদে ঋণ, রপ্তানিকারকদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা ও শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা বলেছেন তারা।
ঋণ পেতে দুর্নীতি বড় বাধা :জরিপে অংশে নেওয়া ৪৩ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করে, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি এখনও অন্যতম বড় বাধা। তবে এ বিষয়ে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্যোক্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা ভিন্নমত পোষণ করেন। ঋণ পেতে কী ধরনের দুর্নীতি হয়- এ প্রশ্নের জবাবে ড. সেলিম রায়হান বলেন, ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তার কথা বলে সুবিধা দাবি করা হয়। এ কারণে অনেকে শেষ পর্যন্ত ঋণ পাননি। দুর্নীতি দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে আরও তৎপর হওয়ার সুপারিশ করেন সেলিম রায়হান। তিনি জানান, আগের জরিপে এ ধরনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কোন ব্যবসায়ী এ ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সে ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে। উদ্যোক্তারা যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার চেষ্টা করছেন তারা।
- বিষয় :
- ওমিক্রন
- ব্যবসা
- শিল্পকারখানা