ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি খাতের বিকাশে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ

প্রযুক্তি খাতের বিকাশে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৫:১১ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৭:০২

করোনা মহামারির পর সব খাতেই চলছে মন্দা ভাব। তথ্যপ্রযুক্তি খাতও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, যাতে অংশ থাকবে তাঁদেরও। তাহলেই বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশ শক্ত স্থান করে নেবে। তথ্যপ্রযুক্তি হয়ে উঠবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি আয়ের খাত। সম্ভাবনার এই দুয়ার উন্মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে  বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বেসিস সফেএক্সপো-২০২৩। একে বলা হচ্ছে, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেরা আয়োজন। চার দিনের এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত এবারের মেলার থিম 'নতুন পৃথিবীতে স্বাগত :এই পৃথিবী একেবারে নতুন, চৌকস।' স্মার্টভার্সে স্বাগতম- এই স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সফটএক্সপো মাধ্যমে বাংলাদেশের আইটি খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্নিষ্টরা। বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ সমকালকে বলেন, '২০০৩ সালে শুরু হয় বেসিস সফটএক্সপো। এবার হচ্ছে ১৭তম আয়োজন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন। এর মাধ্যমে ২০২৫ সাল নাগাদ সরকারের ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও এগিয়ে যাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। এর ধারাবাহিকতায় দেশ পরিণত হবে স্মার্ট বাংলাদেশে।'

কেন এবারের আয়োজন সেরা- সে বিষয়ে রাসেল আহমেদ জানান, ২ লাখ ৮০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে; যাতে অংশ নিচ্ছে ২০৪টি কোম্পানি। গত আয়োজনে কোম্পানি অংশ নিয়েছিল ১৫৬টি। এবার এপপোতে ২৬টির মতো সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজন থাকছে সাতটি বিগ শোর। স্মার্ট বাংলাদেশে নারীর ভূমিকা নিয়ে একটি সম্মেলন হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে আউটসোর্সিং ও স্টার্টআপ বিষয়ে পৃথক সম্মেলনের আয়োজন থাকছে। মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স হবে। থাকবে অ্যাম্বাসাডর নাইট ও বিজনেস লিডারস মিট। তরুণদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনীর চার দিনই কনসার্টের আয়োজন থাকছে। কনসার্টের শেষ দিন অংশ নেবে কোক স্টুডিও। তরুণদের জন্য ই-স্পোর্টস জোন করা হয়েছে বড় আকারে। বড় আকারের ফুডকোর্ট থাকছে। ফ্রি শাটল সার্ভিস থাকছে মেলায় আসা দর্শনার্থীর জন্য। পাঠাও রাইডে মেলায় যেতে মিলছে ডিসকাউন্ট। বিজনেস লাউঞ্জ করা হয়েছে দুটি হলে। স্টার্টআপে অংশগ্রহণকারী আগ্রহী ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাসেল টি আহমেদ আরও বলেন, 'করোনা মহামারির পর সবাই মন্দাবস্থার মধ্য দিয়ে সময় পার করছি। তবে মানুষ জীবনে যতই সমস্যার মুখোমুখি হয়, ততই সৃজনশীল হয়। বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার অনেক দুয়ার খুলেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই এবারের সফটএপপোর আয়োজন। বেসিসের লক্ষ্য দুই ধরনের মানুষকে আকৃষ্ট করা- প্রথমত ব্যবসায়ীদের; যাঁরা এক্সপোতে এসে ব্যবসায়িক সুবিধা, অংশীদার, প্রযুক্তি খুঁজবেন। দ্বিতীয়ত তরুণ; যাঁরা আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন, তাঁদের উৎসাহিত করার প্রয়োজন আছে। কারণ, করোনা মহামারি তাঁদের মানসিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে।'

বেসিস সভাপতি আরও বলেন, 'এখন রিজার্ভ ঘাটতি নিয়ে কথা হচ্ছে। এর সুদূরপ্রসারী সমাধান কী? এখন সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসছে পোশাক খাত আর প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স থেকে। পোশাক খাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা থেকে এর বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তাই নতুন খাত হতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি। এই সম্ভাবনার ফল পেতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাত ভালো উন্নতি করেছে। তবে আরও উন্নতি করতে পারত যদি সঠিক পরিকল্পনা থাকত।'
তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩০ লাখ লোকের ঘাটতি আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই ঘাটতির পরিমাণ ১৫ লাখ; এর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই ১০ লাখ। এ ছাড়া জাপানে ঘাটতি আছে সাড়ে আট লাখ কর্মীর। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে এসব দেশের কাছে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। যখন আমরা ব্র্যান্ডিংয়ে যাব, তখন আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, এ জন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা। কারণ এই খাতে এত দিন যেসব পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা ছিল বিচ্ছিন্নভাবে। তাতে স্টেকহোল্ডার হিসেবে বেসিস তথা তথ্যপ্রযুক্তির উদ্যোক্তাদের খুব বেশি ভূমিকা ছিল না।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফলতার জন্য সরকার, শিল্প খাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বেসিস সভাপতি। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বেসিসের মাধ্যমে তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চান। এখন এই বাজার দখল করে আছে ভারত, ফিলিপাইনসহ পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ। বাংলাদেশকে তাদের সঙ্গে লড়তে হবে। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগের জায়গা হচ্ছে ব্র্যান্ডিং ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।

রাসেল টি আহমেদ বলেন, 'দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে, কিন্তু অনেক বেশি ইউনিকর্ন (যেসব স্টার্টআপে বিনিয়োগ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাচ্ছি না। বাংলাদেশের মার্কেট অনেক বড়। যখন বিদেশি কোনো বিনিয়োগকারী এ দেশে আসে, তারা দেখে এখানে ইউনিকর্ন কয়টি? কত বড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে? তাই দক্ষ জনবল তৈরির কাজ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে করলে এই শিল্প বেশি উপকৃত হবে। এ জন্য সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।' এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়নের জন্য বেসিসকে পাশে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে এ ধরনের উদাহরণ আছে।


 

আরও পড়ুন

×