ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাহারি ব্রেসলেট

বাহারি ব্রেসলেট
×

কাঠের পুঁতি, ম্যাক্রাম, বর্ণিল পুঁতির ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয় মডেল: ঈশিতা আক্তার তানিয়া

রোজী আরেফিন 

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পোশাকের ধরন যা-ই হোক না কেন, অনেক সময় আমাদের মনে হয়, আজকের লুকে কোথাও যেন একটু কমতি রয়ে গেছে! অথচ হাতের কবজিতে শুধু একটা মানানসই ব্রেসলেট গুঁজে নিলে পুরো লুকে চলে আসে চমৎকার ও অভিজাত এক রূপান্তর। সাধারণ একটা টি-শার্ট বা সাদামাটা কুর্তিতেও যখন একঘেয়েমি লাগে, তখন একটা ছোট অথচ সঠিক ব্রেসলেটের ছোঁয়ায় সেই লুকটা নিমেষে হয়ে ওঠে সজীব ও আকর্ষণীয়। বর্তমানের ফ্যাশন ট্রেন্ডে ব্রেসলেট কেবল গতানুগতিক কোনো অলংকার নয়; বরং এটি আপনার ব্যক্তিত্ব, রুচি ও ভাবনার একান্ত প্রকাশ; যা আপনার স্টাইলের সেই চিরচেনা একঘেয়েমি দূর করে নিমেষে আপনাকে করে তোলে আলাদা ও আত্মবিশ্বাসী। 

বর্তমান ট্রেন্ডে কোন ধরনের ব্রেসলেট চলছে? 
ফ্যাশনে এখন বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সব বয়সীর কাছে জনপ্রিয় ব্রেসলেটগুলোর মধ্যে মেটালিক ও গোল্ডেন কাফ বেশ ট্রেন্ডি। এ ছাড়া পুঁতি ও স্টোন ব্রেসলেট, চামড়া ও সুতার ব্রেসলেট, ক্লাসিক মুক্তার ব্রেসলেট এবং ব্যক্তিগত নাম বা নির্ধারিত নাম ব্রেসলেটের চাহিদা সবসময়ই বেশ ভালো। 
পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সৃজনশীল হস্তশিল্প জুয়েলারির ট্রেন্ডেও এসেছে দারুণ বৈচিত্র্য। এখন কাঠের পুঁতি বা কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি গ্রাম্য বা প্রাচীন ধাঁচের ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। নট বা গিঁট দিয়ে তৈরি ম্যাক্রাম ব্রেসলেট তরুণদের ক্যাজুয়াল স্টাইলে আলাদা একটা মাত্রা যোগ করছে। পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের অংশ হিসেবে পাটের রশির ব্রেসলেট এবং কচুরিপানা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ক্রাফটওয়ার্কের ব্রেসলেটও এখন ফ্যাশনসচেতনদের নজর কাড়ছে। এ ছাড়া রিসাইকেলড ভাব আনতে গেঞ্জি বা টি-শার্টের কাটা সুতা তথা টি-শার্ট ইয়ার্ন দিয়ে বোনা রঙিন ও আরামদায়ক ব্রেসলেটগুলোর জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। 

জেন্ডার ও বয়সভেদে ব্রেসলেট নির্বাচন 
পুরুষদের ফ্যাশনে সাধারণত চামড়ার স্ট্র্যাপ, মেটালিক ব্যান্ড, উডেন বিডস বা রশির তৈরি পৌরুষদীপ্ত ও প্রাকৃতিক ধাঁচের ব্রেসলেটগুলো বেশি মানায়। তরুণ বা টিনএজ ছেলেরা ম্যাক্রাম বা টি-শার্ট ইয়ার্নের ব্রেসলেট পছন্দ করলেও পরিণত বয়সের পুরুষরা মেটালের স্লিক ডিজাইন বা লেদারের ব্রেসলেট বেছে নেন। অন্যদিকে নারীর ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। কিশোরী ও তরুণীরা রঙিন বিডস, কাচের পুঁতি, কচুরিপানা, পাট, ম্যাক্রামে কিংবা সুতার তৈরি ফান ও কালারফুল ব্রেসলেট পরতে ভালোবাসেন। একটু বয়সী বা কর্মজীবী নারীরা ক্লাসিক পার্ল, স্লিক গোল্ডেন বা সিলভার কাফ এবং এলিগেন্ট স্টোন বসানো ব্রেসলেটগুলো বেশি পছন্দ করেন। ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে অক্সিডাইজড মেটাল, ভারী কাজের কাফ বা স্টোন বসানো ব্রেসলেট চমৎকার মানায়। সিল্ক বা জামদানি শাড়ির সঙ্গে চিকন মেটালের একাধিক ব্রেসলেট বা চুড়ির মতো একসঙ্গে পরে পরা যায়। অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন ড্রেস বা গাউনের সঙ্গে হাত খালি না রেখে একটি স্লিক সিলভার বা গোল্ডেন কাফ কিংবা ট্রেন্ডি চার্ম ব্রেসলেট বেছে নেওয়া যেতে পারে। ক্যাজুয়াল টি-শার্ট, কুর্তি বা জিন্সের সঙ্গে কাঠের পুঁতি, ম্যাক্রাম, পাটের রশি, টি-শার্ট ইয়ার্ন বা কালারফুল বিডসের ব্রেসলেটগুলো দারুণ মানানসই। ফরমাল শার্ট, প্যান্ট বা ব্লেজারের সঙ্গে খুব বেশি জমকালো নয়, বরং একটি পাতলা গোল্ডেন বা সিলভার চেইন ব্রেসলেট প্রফেশনাল লুক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। 

দরদাম ও প্রাপ্তিস্থান 
ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, আজিজ সুপারমার্কেট কিংবা যে কোনো হকার্স ও ফুটপাতের মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের সুতা, টি-শার্ট ইয়ার্ন, বিডস, পাট ও সাধারণ মেটালের ফ্যাশনেবল ব্রেসলেট পেয়ে যাবেন ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। অনলাইনের বিভিন্ন পেজ বা দারাজেও এই দামের মধ্যে নানা ধরনের ব্রেসলেট পাওয়া যায়। 
অন্যদিকে একটু মানসম্মত বা এক্সক্লুসিভ কালেকশনের জন্য আড়ং, যাত্রা বা বিভিন্ন নামি বুটিকশপ এবং অনলাইন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোয় কাঠের পুঁতি, ম্যাক্রাম, ব্রাস বা ইকো-ফ্রেন্ডলি উপকরণের অনন্য নকশার ব্রেসলেটের দাম সাধারণত ৩০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এ ছাড়া একটু ভারী ফিনিশিংয়ের অক্সিডাইজড মেটাল, প্রিমিয়াম স্টোন বসানো কাফ ব্রেসলেট বা রুপা-সোনার ফিনিশ করা এক্সক্লুসিভ কালেকশন কিনতে খরচ হতে পারে ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা কিংবা তার বেশি। খাঁটি সোনা বা মুক্তার তৈরি প্রিমিয়াম জুয়েলারি শপের ব্রেসলেটগুলোর দাম হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×