সার্বিক আমদানি বাড়লেও মূলধনি পণ্যে কমেছে
.
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ০০:০৭
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়েছে আড়াই শতাংশের মতো। ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যশস্যের আমদানি বেড়েছে। তবে কমেছে মূলধনি পণ্য আমদানি। গত অর্থবছরে মূলধনি পণ্যের আমদানি ১০ শতাংশ কমেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে ১৯ শতাংশের বেশি। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগে গতি না থাকা এর কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে মোট ছয় হাজার ৮৩৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৬৭২ কোটি ডলার। আমদানি বেড়েছে ১৬৩ কোটি ডলার, যা ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ডলার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর যেখানে আমদানি কমেছিল ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চালের আমদানি সবচেয়ে বেড়েছে। গত অর্থবছর ৬৮ কোটি ২৪ লাখ ডলারের চাল আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ২৬ গুণ বেশি। এর আগের অর্থবছরে দুই কোটি ৫৪ লাখ ডলারের চাল আমদানি হয়। তবে গমের আমদানি ২০ শতাংশ কমে ১৬২ কোটি ডলারে নেমেছে। ভোজ্যতেলের আমদানি প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ২৭১ কোটি ডলার হয়েছে। ডালের আমদানি বেড়েছে ৩৪ শতাংশের বেশি। তবে মসলার আমদানি সাড়ে ৪ শতাংশ কমে ৪৬ কোটি ডলারে নেমেছে। চিনির আমদানিও সাড়ে ৪ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমেছে।
গত অর্থবছরে তৈরি পোশাকসংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি ১০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৪৪ কোটি ডলার হয়েছে। টেক্সটাইলসংশ্লিষ্ট কাঁচামালের আমদানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৯৬ কোটি ডলার হয়েছে। সূতা আমদানি ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৩৬২ কোটি ডলার হয়েছে। তবে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ১৬ শতাংশ কমে ৫১৪ কোটি ডলারে নেমেছে। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের আমদানি প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে ৬২ কোটি ডলার হয়েছে। তুলা আমদানি ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৩৪৬ কোটি ডলারে নেমেছে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
ব্যাংকাররা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট, উচ্চ সুদসহ বিভিন্ন কারণে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি এখন কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি জোর দিচ্ছে। যে কারণে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর থেকে এক অংকের ঘরে নামলেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন গভর্নর। এ সময়ে ব্যাংক খাত সংস্কারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবার অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করা এবং তা ফেরত আনতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। বিগত সরকারের সময় অর্থ পাচারে শীর্ষ সন্দেহভাজন শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপের বিষয়ে যৌথ তদন্ত চলমান আছে। আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে জোর তদারকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালের করোনা-পরবর্তী অর্থনীতিতে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এর পরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিভিন্ন নীতিসহায়তা দেয় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদহার অনেক বাড়লেও দেশে ৯ শতাংশের সীমা রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে কম সুদের ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। এতে করে দেশ থেকে অর্থ পাচার ব্যাপক বেড়ে যায়। যে কারণে ২০২১ সালের ৮৪ টাকা দরের ডলার উঠে যায় ১২২ টাকায়। আবার ওই সময়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়ানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গত বছরের জুলাইতে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়নে নেমে আসে। তবে বর্তমান সরকার পতনের পর অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এতে করে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে। বরং দাম কমে ১১৯ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তা ১২২ টাকা হয়েছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রোববার ২৫ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।
- বিষয় :
- আমদানি