ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ডিজিটাল হচ্ছে

টিসিবি

পণ্য বিতরণ কার্যক্রম ডিজিটাল হচ্ছে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবার কার্ডধারীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পরিষেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল-ইন-ওয়ান পিওএস, এআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সংস্থাটির পণ্য বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি অডিটোরিয়ামে এই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
টিসিবি জানিয়েছে, তাদের সেবা ম্যানুয়াল থাকায় হাতে লেখা কার্ড ব্যবস্থায় ডুপ্লিকেট কার্ড, একাধিকবার তালিকাভুক্তি এবং তথ্যের অসামঞ্জস্যের সুযোগ ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রা শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে চালু হওয়া ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের বিদ্যমান পরিবার কার্ড হারিয়ে গেলেও পণ্য কেনা যাবে। 

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে উপকারভোগীর সুবিধা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে টিসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের কারণে গত বছরের তুলনায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই ভর্তুকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। 
সব আবেদনকারীকে ডিলারশিপ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় ১০ জন ডিলার আবেদন করলেও সেখানে যদি দেড় হাজার উপকারভোগী থাকেন তাহলে ওই দেড় হাজারের জন্য একজনই ডিলার নির্ধারিত হবেন। পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ডপ্রতি একজন ডিলার থাকবেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য উপকারভোগীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তালিকায় ৮৯ লাখ উপকারভোগী রয়েছেন। 
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল আজাদ বলেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদান, ডিলার ও উপকারভোগী ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং এবং নাগরিক যোগাযোগে গতিশীলতা আনতে নতুন সেবাগুলো চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘উপকারী’ অ্যাপটি ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে কাজ করবে। এটি বিদ্যমান টিসিবি কার্ড বাতিল করবে না, বরং অতিরিক্ত ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড-সমন্বিত ডিজিটাল ইনভয়েসের মাধ্যমে উপকারভোগীরা পণ্য কিনতে পারবেন। কার্ড হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলেও পণ্য কেনা যাবে। ডিজিটাল ইনভয়েস ব্যবহারের ফলে টিসিবির এসএমএস পাঠানোর খরচও অর্ধেকের বেশি কমবে।

এদিকে কয়েকদিন ধরে মেয়াদ শেষ হওয়া ডিলাররা তাদের নবায়ন করার দাবিতে টিসিবির মূল ফটকে অবস্থান ধর্মঘট করে আসছে।
গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পর তাঁকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন তারা। কেউ কেউ তাঁর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। তবে কিছুক্ষণ পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন

×