ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টরন্টো উৎসবে ইতিহাস গড়ে অস্কারে যাচ্ছে ‘অ্যাং’, কী আছে এই সিনেমায়

টরন্টো উৎসবে ইতিহাস গড়ে অস্কারে যাচ্ছে ‘অ্যাং’, কী আছে এই সিনেমায়
×

‘অ্যাং’ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: আইএমডিবি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩১ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৪

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘অ্যাং’।

সিনেমাটি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ৩১ বছর বয়সী এই নির্মাতা ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সেটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। এবার সেই গল্পকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে বড় পর্দায় নিয়ে এসেছেন তিনি।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি নির্বাচিত ‘অ্যাং’ পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার। সিনেমাটির নির্মাণশৈলী, ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জগতের গভীর ও আবেগপূর্ণ চিত্রায়নের প্রশংসা করেছে তারা।

কোহিমায় (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী) জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ‘অ্যাং’কে সঙ্গে নিয়ে পথ চলেছেন তারা। গল্পটি নিজেদের মতো করে বলার বিশ্বাস কখনো হারাননি।

নির্মাতা জানান, এটি তার এবং সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। প্রথম সিনেমা হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাওয়া বিরল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের জায়গা, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলে জানান রিও।

ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে গড়ে ওঠা এক নির্জন কনিয়াক গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার কাহিনি। গ্রামের প্রধান আংবা (অ্যাংলং কনিয়াক) দেখছেন, একে একে তার মানুষজন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কাছের আমেরিকান মিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে তারা গ্রহণ করছে নতুন জীবন—পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা এবং নতুন ভাষা।

পুরোনো গ্রামে থেকে যান শুধু আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। তারা যেন হারিয়ে যেতে বসা এক সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী। এই পরিবারের ভেতর দিয়েই থেজা রিও তুলে ধরেছেন উপনিবেশ, ধর্মীয় প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস।

`আং' কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়; এটি নাগা জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে বলা এক আত্মকথন, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা মিশে গেছে একটি জাতির স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে। ছবিটি মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু বিজয়ীদের নয়—প্রান্তিক মানুষের গল্পও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

থেজা রিও

নিজেদের সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌঁছানোয় আবেগাপ্লুত থেজা রিও। তিনি টিআইএফএফের জুরিকে তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভারতের সংস্কৃতি ও নিজেদের জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াকেও বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

সাধারণত অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ তাদের পক্ষ থেকে একটি সিনেমা মনোনয়ন দেয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখার পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল।

ফলে ২০২৭ সালের অস্কার ঘিরে ভারতের সিনেমা অঙ্গনে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমাই বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি ও লাইভ মিন্ট

আরও পড়ুন

×