ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখতে চাই না

অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখতে চাই না
×

তানভীর আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শেলটেক

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ মে ২০২২ | ০৪:৪৬

আবাসন খাতের অভিজ্ঞতা, সংকট ও প্রত্যাশার নানা দিক নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান শেল্‌টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ।

-৩৩ বছর ধরে আবাসন খাতে কাজ করছে শেল্‌টেক্‌। যাত্রাটা কেমন ছিল?
-- ৩৩ বছরে শেল্‌টেকের যাত্রা অবশ্যই সফলতার সঙ্গে এগিয়েছে। শুরুর সময়ে শেল্‌টেক্‌ একটা প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০০৮ সালে কোম্পানিতে আমি জয়েন করি। তখন এতে নতুন মাত্রা যোগ করি। হোটেল, এয়ারলাইন্স, সরকারের সঙ্গে জিটুজি ব্যবসা, পোল ম্যানুফ্যাকচারিং, টাইলস কারখানা, চা বাগান, ব্রোকারেজ হাউস, কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন, ড্যাপের কনসালট্যান্সিসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২৩টি প্রতিষ্ঠান এখন আমাদের।

- আসন্ন বাজেটে রিয়েল এস্টেট খাতের স্বার্থে আপনার বিশেষ প্রত্যাশা কী?
-- আসন্ন জাতীয় বাজেটেও উৎস না দেখিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগটা অব্যাহত রাখা উচিত। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। সেই সঙ্গে ভর্তুকি দিয়ে হলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্য নির্ধারণ করা জরুরি এবং এতে সরকারের একটা নজরদারি থাকা দরকার।

-রিয়েল এস্টেট খাতে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ আছে। এ থেকে উত্তরণে আপনার পরামর্শ?
--রিয়েল এস্টেট খুবই ওপেন একটা মার্কেট। এখানে যাচাই-বাছাই করে, কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই ফ্ল্যাট কেনা উচিত। মানুষ অনেক সময় লোভে পড়ে বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতা এবং প্ন্যান ঠিক আছে কিনা যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করতে হবে। রিহ্যাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় হাজার। অথচ বাজারে কয়টা কোম্পানি অপারেট করে তা হাতে গুনে দেওয়া যায়। এখন অল্প টাকায় ফ্ল্যাট কেনার অফার দিলেই তা না কিনে যাচাই-বাছাই করা খুব জরুরি।

- পরিবেশ-প্রকৃতি সংরক্ষণে আমাদের আবাসন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সচেতন বলে মনে করেন?
-- বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এমনিতে জমির একাংশ ছেড়ে দিতে হয় পরিবেশের জন্য। এগুলো আগে ওপেন স্পেস ছিল, যেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারে। এর তেমন কোনো ব্যবহার তখন ছিল না। তবে এখন যারা বিনিয়োগ করছেন, তারা গ্রিন একটা আবহ তারা খোঁজেন। আমরা না শুধু, ভালো রিয়েল এস্টেট কোম্পানি যারা আছে, তারা সবাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের দিকে যাচ্ছে। শহরের মাঝে থেকে একটা অ্যাপার্টমেন্ট যতটা গ্রিনারি করা যায়, তা কিন্তু কোম্পানিগুলো করছে। ক্রেতা এখন বলেন, অন্য কোম্পানিও তো একই রকম ফ্ল্যাট দিচ্ছে, সুবিধা দিচ্ছে, আপনারা বাড়তি কী দিচ্ছেন? ওই গ্রিনারিটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।

- মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আবাসন নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের কোনো পদক্ষেপ আছে?
-- এ জন্য অনেক বড় প্রজেক্ট নিতে হবে। মিরপুর, মেরুল বা উত্তর বাড্ডায় এখনও বড় জমি রয়েছে, যেখানে বড় প্রজেক্ট নির্মাণ করা সম্ভব। বড় প্রজেক্ট করলে তার খরচ কম থাকে। মিরপুর মাজার রোডে যখন ২০০ অ্যাপার্টমেন্টের একটা কমিউনিটি গড়ে তুললাম, তখন কিন্তু ওই এলাকার অনেক কিছুই বদলে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্মাণসামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমরা আশা করি অনেক ফ্ল্যাটের দামই মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখতে পারব।

- সামনে শেলটেককে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
-- ইচ্ছে আছে, এটা জেনারেশন ব্যবসা হোক। এক প্রজন্মের পর ব্যবসা থেমে না যাক। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি যেমন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে, এমন। এর কোনো অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখতে চাই না, দুই-তিন বছর প্রচুর টাকা এলো, এরপর বসে পড়ল, এমনটা চাই না। চাই একটা ক্রমাগত বৃদ্ধি। নিজেদের আস্থার জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। শেল্‌টেকের কথা শুনলেই যেমন মানুষ আস্থা পায়, সেটি যেন আমাগীতেও বিদ্যমান থাকে। এই আস্থা আরও বাড়াতে চাই। রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে আমাদের সিরামিক ও টাইলস ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে। স্যানিটারি কারখানা দেওয়ার ইচ্ছা আছে। এগুলো মূল কাঁচামাল একই। তবে সব ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে দাঁড় করানো যাবে না। একেকটা কারখানা দাঁড় করাব, তা নিজের পায়ে যখন চলতে পারবে, তখন আরেকটি কারখানা স্থাপন করা যাবে। তাহলে টাকাটা আটকে থাকবে না।

আরও পড়ুন

×