ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গান গাইতে পারছি, এটাই বড় তৃপ্তি: খুরশীদ আলম

গান গাইতে পারছি, এটাই বড় তৃপ্তি: খুরশীদ আলম
×

খুরশীদ আলম

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:১৫

খুরশীদ আলম। বরেণ্য সংগীতশিল্পী। আজ ১ আগস্ট ৮১ বছরে পা রাখছেন তিনি। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই নির্মাণ করেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’। জন্মদিন, প্রামাণ্যচিত্র ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন 

শুভ জন্মদিন। এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটবে?
শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সমকালকে ধন্যবাদ। আমি কখনোই ঘটা করে জন্মদিন পালনের পক্ষপাতী নই। নিজের জন্মদিন সাধারণত দিনটি নীরবে-নিভৃতে কেটে যায়। তবে এবার একটু ব্যতিক্রম। চ্যানেল আই আমার জন্মদিন উপলক্ষে ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে। এ কারণে জন্মদিন ঘিরে কিছু আয়োজন হচ্ছে। আজ দুপুরে চ্যানেল আইয়ের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে অংশ নেব। সেখানে সংগীতশিল্পী নীলু বিল্লাহও থাকবেন। মানুষের এত ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে।

‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’ তথ্যচিত্রটি নিয়ে আপনার অনুভূতি কী?
খুব ভালো লাগছে। একজন শিল্পীর জীবনের পথচলা, সংগ্রাম, গান আর স্মৃতিগুলো যখন একটি তথ্যচিত্রে উঠে আসে, তখন সেটি অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার জীবনের নানা অজানা গল্প, সংগীতচর্চা এবং দীর্ঘ পথচলার কিছু অংশ এতে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি এটি দেখে আমার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

অনেক দিন ধরেই নতুন গান করছেন না। কারণ কী?
সত্যি বলতে এখন আমার গানের জন্য উপযুক্ত গীতিকার ও সুরকার পাচ্ছি না। তাই নতুন গান করা হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে গান করি। গত বৃহস্পতিবার দেশ টিভির একটি বিশেষ আয়োজনে গান গেয়েছি। এখন গান তৈরি করতে অডিওর পাশাপাশি ভিডিওও করতে হয়। নিজের অর্থ ব্যয় করে এসব করতে আমার আগ্রহ নেই। তবে ভালো কোনো প্রস্তাব এলে অবশ্যই গান করব। গান গাইতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

গানের ব্যস্ততা নেই। অবসর কাটে কীভাবে?
গানই আমার জীবন। সারাদিন গুনগুন করে গান গাই। প্রচুর গান শুনি। সংগীতের মানুষদের সঙ্গে আড্ডা দিই। এককথায় গানকে ঘিরেই আমার পৃথিবী। এখন স্টেজশো আগের মতো নেই, কিন্তু গান থেকে তো দূরে থাকা যায় না। এখনও ৮১ বছর বয়সে এসে আমি যে গাইতে পারছি, সেটাই আমার বড় তৃপ্তি।

জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কীভাবে দেখেন?
আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। মানুষের চাওয়ার শেষ নেই, কিন্তু আমি সবসময় অল্পতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। মানুষের ভালোবাসার মতো বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। আমি সেই ভালোবাসা পেয়েছি। এখনও মানুষ আমার গান শোনে, ভালোবাসে– এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাই কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই, কোনো অভিযোগও নেই।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
নতুনরা অনেক ভালো কাজ করছে। তাদের চেষ্টা এবং মেধার কোনো ঘাটতি নেই। তবে অনেক সময় মনে হয়, দশটি গান শুনলে একই ধরনের গান শুনছি। সারা বিশ্বেই সংগীতের ধারা বদলেছে, সেই পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের গানেও এসেছে। এতে সমস্যা নেই। তবে আমি চাই নতুনরা আরও বেশি মৌলিক কাজ করুক, সুর ও কথার প্রতি আরও মনোযোগী হোক।

সিনেমার গানকে কী মিস করেন?
অবশ্যই করি। আমাদের সময়ে অনেক সিনেমা হতো, তৈরি হতো অনেক গান। পরিচালক ও সুরকাররা চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পী নির্বাচন করতেন। এখন সময় বদলেছে। নতুনরা কাজ করছে, তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগও কম। তবে কেউ যদি ভালো গান নিয়ে ডাকেন, আমি অবশ্যই সিনেমায় আবার গাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনের পর আজকের তরুণ শিল্পীদের কী বলতে চান?
সংগীতকে ভালোবাসতে হবে। শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়, শেখার জন্যও গান করতে হবে। নিয়মিত চর্চা, শৃঙ্খলা আর ধৈর্য ছাড়া একজন শিল্পী বড় হতে পারে না। আমি আজও শিখছি। গানই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। যতদিন কণ্ঠে সুর থাকবে, ততদিন গান নিয়েই থাকতে চাই।

আরও পড়ুন

×