ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত বেড়ে ৩৪

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে  আক্রান্ত বেড়ে ৩৪
×

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস কাটাকাটি এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খাওয়ার পর অ্যানথ্রাক্স দেখা দিয়েছে। দুই গ্রামে নতুন চারজনসহ মোট ৩৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছে। এই ঘটনায় দুই গ্রামসহ পুরো উপজেলার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামে দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গৃহস্থরা স্থানীয়দের সাহায্যে গরু দুটি জবাই করে প্রায় ২০০ মানুষের কাছে মাংস বিক্রি করেন। এর পরপরই লোকজনের শরীরে ফোসকাসহ অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা করা হলে রোগের বিষয়টি শনাক্ত হয়। 

গতকাল বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং এপিডেমিওলজি সেলের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিশ্চিত হতে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে শিয়ালের মাথা ও অসুস্থ গরুর মাংস পাঠানো হয়। ল্যাবে পাঠানো নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্ক পজেটিভ এসেছে। 
গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে শিশু-নারীসহ ৯ জন এবং দুটি গরু আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন এখনও ভর্তি রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, প্রচার-প্রচারণা ও টিকাদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। 

টিকা ও জনবল সংকট 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলায় মোট দুই লাখ ৫৪ হাজার গরু রয়েছে। আক্রান্ত এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ৪৫ হাজার গরুর টিকা প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। তবে জনবল সংকটের কারণে সবাইকে দ্রুত টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। খামারিদের অভিযোগ, গত বছরও অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। আগাম প্রস্তুতি না নেওয়া এবং সময়মতো টিকা না দেওয়ায় এবারও সংকট তৈরি হয়েছে। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘আক্রান্তদের জবানবন্দি শুনে অ্যানথ্রাক্স বলে মনে হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত যাদের শরীরে লাগবে, তাদেরই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তবে মাংস যেহেতু অধিক তাপমাত্রা দিয়ে রান্না করা হয়, সে ক্ষেত্রে যারা মাংস খেয়েছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। 
তিনি বলেন, শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষসহ আক্রান্ত পশু দুটিকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স এবং শিয়ালের মাথায় জলাতঙ্ক জীবাণু পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কামরুল হাসান বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে দুই গ্রামের ৩৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া শিয়ালের কামড়ে একজন এখনও ভর্তি এবং বাকি আটজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’ 
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, আক্রান্তদের গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 
এর আগে গত বছর অক্টোবরে অ্যানথ্রাক্সে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছিল। সেই সময়ে একজন নারী ও ১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছিল। 

আরও পড়ুন

×