ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবার রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবার রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ
×

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২০

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গত জানুয়ারিতে এক অভিযানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্পের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রদ্রিগেজের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম সফর। বুধবার বিকেলে সাধারণ পরিষদে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় বা উপযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা। প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং প্রেসিডেন্টের সহকারী ও নীতি-বিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার।

মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্প একটি কর্ম-সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, ওয়াশিংটন মারিয়া করিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষকে পাশ কাটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তেল ও বিনিয়োগ চুক্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং অবাধ নির্বাচনের দাবি থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ভেনেজুয়েলার একদল মানুষ বিক্ষোভ করেন।

মঙ্গলবার সকালে সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প মাদুরোকে একজন ‘আইন-বহির্ভূত স্বৈরশাসক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর থেকে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই অভিযানকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তার ‘অতুলনীয় সামরিক শক্তি’ প্রয়োগ করবে।

‘বিজয়ীই সব সম্পদের মালিক হয়’—মন্তব্য করে ট্রাম্প গত মাসে কারাকাসের সঙ্গে তার প্রশাসনের স্বাক্ষরিত একটি তেল চুক্তিকে ‘সম্ভবত সর্বকালের সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসুক—এমনটাই তিনি চান।

সূত্রমতে, সোমবার একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছান রদ্রিগেজ। প্রতিনিধি দলটি মার্কিন কর্মকর্তা, বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ভেনেজুয়েলার জন্য ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদনের চেষ্টা করছেন। তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্যের কাছ থেকে তিনি বাধার মুখে পড়েছেন।

রদ্রিগেজের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে জাতিসংঘের বাইরে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা ভেনেজুয়েলার পতাকা ওড়ান এবং ‘ভোট নেই তো তেলও নেই’  ও ‘নতুন মুখ, একই শাসনব্যবস্থা’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেকেই জানান, তারা চান ট্রাম্প যেন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে অবাধ নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

বিক্ষোভকারীরা ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি স্লোগান দেন—‘ডেলসি, আমি শপথ করে বলছি, মাদুরোর সঙ্গে তোমাকেও ব্রুকলিনে যেতে হবে।’ এই স্লোগানের মাধ্যমে নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিন বরোতে অবস্থিত ফেডারেল কারাগারের কথা বোঝানো হয়েছে, যা জাতিসংঘের ঠিক বিপরীতে ইস্ট নদীর ওপারে অবস্থিত। মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার-প্রক্রিয়া চলাকালে তার পূর্বসূরি মাদুরোকে সেখানেই আটক রাখা হয়েছে।

২০১৭ সালে কারাকাস থেকে চলে আসা ৩৪ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার মিগুয়েল এদুয়ার্দো মার্টিনেজ বলেন, ‘একদিকে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সেই শাসনব্যবস্থার কোনো অংশের বৈঠক দেখাটা যেমন ক্ষোভের বিষয়, তেমনি এতে কোনো সন্দেহ নেই যে—এই সরকারের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনতার আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছি।’

বিক্ষোভকারী সিজার কোয়েলো বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাভিস্টা একনায়কতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি কমলা রঙের কারাগারের পোশাক পরা রদ্রিগেজের ছবিযুক্ত একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন।

‘চাভিসমো’ হলো ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক আন্দোলন।

কোয়েলো বলেন, আশা করছি ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ শিগগিরই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

আরও পড়ুন

×