ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন দেবীর রহস্যে

বন দেবীর রহস্যে
×

‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’ সিনেমায় তামান্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা

উপমা পারভীন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের আলোয় জঙ্গলটা শান্ত। পাতায় পাতায় আলো, পাখির ডাক, আর দূর থেকে ভেসে আসে বাতাসের মৃদু শব্দ। সূর্য ডুবে গেলে নেমে আসে ঘন অন্ধকার, বদলে যায় চারপাশের শব্দ। লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা গল্পগুলো নতুন করে জীবিত হয়ে ওঠে। সেই অন্ধকারে প্রবেশ করতে বারণ। কারণ, বিশ্বাস করা হয়, সূর্যাস্তের পর সেখানে মানুষের জন্য নিরাপদ নয়।
এই লোকবিশ্বাস আর রহস্যময় পরিবেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’। সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমার ট্রেলার আর টিজার দর্শকের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে। জঙ্গল, অজানা বিপদ আর একের পর এক নাটকীয় মোড়। সব মিলিয়ে ছবির গল্প যেন দর্শককে টেনে নেয় এক অন্ধকার জগতের দিকে। 
‘দ্য ভান’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে আছেন এমন একজন মানুষ, যিনি একটি সংরক্ষিত জঙ্গলে প্রবেশ করে প্রচলিত এক নিয়ম ভেঙে ফেলেন। সেই নিয়ম ভাঙার পর থেকে সব বদলাতে শুরু করে। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্রমে হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। একের পর এক সামনে আসে রহস্য, ভয় আর অনিশ্চয়তা।
গল্পটি পুরোপুরি কল্পনা থেকে তৈরি নয়। এর পেছনে রয়েছে ভারতের বিহারের পাটনার কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বনদেবী মন্দির ঘিরে থাকা নানা লোককথা। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মন্দিরের ইতিহাস ও স্থানীয় বিশ্বাস তাদের এই গল্প ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে। মন্দিরটি ঘিরে রয়েছে প্রচলিত কিছু নিয়ম এবং সূর্যাস্তের পর সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। পাটনার এই বনদেবী মন্দির স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থান। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা লোককথা। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, সূর্যাস্তের পর মন্দিরে প্রবেশ করা যায় না। মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার পর পুরোহিতরাও সেখান থেকে চলে যান। রাতে মন্দিরে থাকার অনুমতি তাদেরও নেই। স্থানীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এর একটি অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যাও জড়িয়ে আছে। বলা হয়, সূর্যাস্তের পর বনদেবী মন্দির প্রাঙ্গণে বিচরণ করেন। তাই সন্ধ্যার পর সেখানে মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। সময়ের সঙ্গে এই বিশ্বাস একটি কঠোর নিয়মে পরিণত হয়েছে। ‘দ্য ভান’ সিনেমার নির্মাতাদের কাছে এই নিষেধাজ্ঞা হয়ে ওঠে গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। পরিচালক অরুণাভ কুমার জানিয়েছেন, শুধু লোকমুখে শোনা গল্পের ওপর নির্ভর করেননি তারা। তিনি নিজে মন্দিরে গিয়েছেন, কথা বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিতদের কাছ থেকেও জানার চেষ্টা করেছেন এর ইতিহাস, বিশ্বাস ও প্রচলিত গল্প সম্পর্কে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে তিনি গল্পটি পরিচালক দীপক কুমার মিশ্রকে শোনান। বিষয়টি দুজনের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর তারা প্রযোজক একতা কাপুরের কাছে গল্পটি নিয়ে যান। গল্পটি বড়পর্দায় আনার বিষয়ে তিনিও উৎসাহ দেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে ‘দ্য ভান’-এর জগৎ। বাস্তব একটি স্থান ও লোকবিশ্বাসকে ভিত্তি করে নির্মাতারা যোগ করেন সিনেমার নিজস্ব কল্পনা, রহস্য ও নাটকীয়তা।
‘দ্য ভান’ সিনেমার গল্পের বড় অংশজুড়ে রয়েছে জঙ্গল। ফলে শুধু বাস্তব লোকেশন দিয়ে সেই পরিবেশ তৈরি করা যথেষ্ট ছিল না নির্মাতাদের জন্য। প্রয়োজন হয়েছে প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশনের ব্যাপক ব্যবহার। দীপক কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, অরুণাভের কাছ থেকে গল্পটি শোনার সময় তাঁর মাথায় বিভিন্ন দৃশ্য ভেসে উঠতে শুরু করে। সেই দৃশ্যকল্প থেকে ধীরে ধীরে ছবিটির ভিজুয়াল জগৎ তৈরি করা হয়। নির্মাতাদের মতে, দর্শক সিনেমাটি দেখার সময় হয়তো প্রতিটি দৃশ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার আলাদাভাবে বুঝতে পারবেন না। কিন্তু পর্দায় যে জগৎটি তারা দেখবেন, সেটি তৈরি করার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ।
ছবিটির আরেকটি আকর্ষণ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া জুটি। দুজনকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। বিশেষ করে রহস্যে ঘেরা জঙ্গলের গল্পে তাদের চরিত্রগুলো কীভাবে যুক্ত হয়, সেটিই এখন দর্শকের আগ্রহের বিষয়। সিদ্ধার্থকে এর আগে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা গেলেও ‘দ্য ভান’ সিনেমাটি তাঁর জন্য আলাদা মাত্রা তৈরি করেছে। অন্যদিকে তামান্না ভাটিয়াও এমন একটি রহস্যময় গল্পে দর্শকদের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
সিনেমাটির গল্পে শুধু ভয় বা আতঙ্ক থাকছে না; জঙ্গল ঘিরে মানুষের বিশ্বাস, প্রাচীন লোককথা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভয় আর শ্রদ্ধা–এই দুইয়ের টানাপোড়েনও হয়তো ছবিটিতে বিশেষভাবে উঠে আসবে। 

আরও পড়ুন

×