ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে
×

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫১

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএএমইএ) নেতারা। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠকের পর জামায়াত নেতা এবং ব্যবসায়ীরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, হাসপাতাল গুড়িয়ে দেওয়া, বিভিন্নস্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত। এ পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে  শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো খাতই নিরাপদ থাকবে না। সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মব, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে। 

ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ব্যবসায়ের জন্য হুমকি বলে আখ্যা দেন বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই। দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই। কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যাঁরা আছেন, তাঁদেরই রাজনীতিটা করা উচিত।’

জামায়াত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর আগে বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা প্যাকেজিং-অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যা সংসদে তুলে ধরে ভূমিকা রাখার আশ্বাস বিরোধীদলীয় নেতা। এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পসহ দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রপ্তানি বাড়াতে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মো. শাহরিয়ার বলেন, প্যাকেজিং-অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে এ খাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছি। লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এগুলো সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। 

বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট বলেন, প্যাকেজিং শুধু তৈরি পোশাকশিল্পে সীমাবদ্ধ নয়; টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক বাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এ বাজারে খুবই সামান্য অংশ দখল করতে পেরেছে।

আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজের আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার হবে বলে জানান মো. শাহরিয়ার। বৈঠকে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠিত হয়েছে মাত্র ছয় মাস। সরকারকে আমরা সময় দিতে চাই, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করতে চাই। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে।

সভায় কনভিন্স জিপার অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক; বিপিএএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও খান অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল কাদের খান; বিপিএএমইএর উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার লতিফুর রহমান আজিমসহ জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। 

জামায়াতের পক্ষে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ডা. আনোয়ারুল আজিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×