স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়েও শতভাগ উপস্থিত চিকিৎসক
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৩ | ১৮:০০
মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর ও গলচাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা নিতে হাজির হন অনেক লোক। কিন্তু থাকেন না নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা। তাঁদের কোনো দিন দেখেননি বলে দাবি চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনের।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেখা গেছে, হাট ফতেপুর উপস্থাস্থ্যকেন্দ্রে ১০-১২ জন রোগী উপস্থিত হয়েছেন। ফার্মাসিস্ট কাদের মিয়া তাঁদের রোগের কথা শুনে ওষুধ দিয়ে দিচ্ছেন। একটু পরে উপস্থিত হন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) জাহাঙ্গীর আলম। মেডিকেল অফিসার সম্পর্কে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, জরুরি কাজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকতে পারেন। এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক রুবায়াত আনোয়ার। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই কেন্দ্রে যোগদান করেন। কিন্তু তাঁকে কোনোদিন দেখেননি এলাকার মানুষ। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী সেবা নিতে আসেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।
কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা ফতেপুর গ্রামের রিজিয়া বেগম, থলপাড়ার কালাম মিয়া, সুতানরি গ্রামের কালিপদ, থলপাড়া গ্রামের খুশিমহন সরকারের সঙ্গে। তাঁরা জানান, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারকে কোনো দিন দেখেননি তাঁরা। তবে একজন চিকিৎসক আছে বলে শুনেছেন।
তবে পারদিঘী গ্রামের উজ্জল মিয়ার দাবি, চিকিৎসক রুবায়াত আনোয়ারকে দুয়েক দিন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখেছেন তিনি।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম সিকদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর ব্যবসা প্রতিষষ্ঠানে থাকেন। জানতে চাইলৈ তিনি বলেন, মাস দুয়েক আগে ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসককে দেখেছেন। তখন তাঁকে সপ্তাহে অন্তত একদিন আসতে অনুরোধ করেন। তারপর আর ওই চিকিৎসকের দেখা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, দেড় মাস আগে চিকিৎসককে সপ্তাহের হাটবার (মঙ্গলবার) উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু তার আর দেখা নেই।
ডা. রুবায়াত আনোয়ার মোবাইল ফোনে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি ডিউটি থাকলে সেদিন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া হয় না। অন্য দিনগুলোতে যাওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়দের অভিযোগের কথা শুনে নীরব হয়ে যান তিনি। তবে হাজিরা খাতায় দেখা গেছে,
প্রতিদিনই উপস্থিত তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ– মাসে দুয়েক বার এসে সব স্বাক্ষর করে যান ডা. রুবায়াত আনোয়ার।
এছাড়া ভাওড়া ইউনিয়নের গলচাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সাবিহাকেও দেখা যায় না বলে দাবি এলাকাবাসীর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি। যোগদানের পর তিনি মাত্র দুই দিন এসেছেন বলে জানান উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) আইনুল হক।
আমড়াইল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ওই ডাক্তারকে কোনো দিন দেখিনি।’
ডা. সাবিহা বলেন, ‘আমি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত ডিউটি করি।’ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়োগপত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আমাকে ডিউটি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য আমি গলচাড়াতে দুই দিন তদারকির জন্য গিয়েছিলাম।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, হাট ফতেপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতে নিয়মিত চিকিৎসক যান সে ব্যাপারে ব্যবস্থা করা হবে। গলচাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক তাঁর নিয়োগপত্র অনুযায়ী ডিউটি করছেন। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়ম।
- বিষয় :
- অনিয়ম
- মির্জাপুর
- স্বাস্থ্যকেন্দ্র