‘জাতীয় দলের জার্সি পরা আমার স্বপ্ন ছিল’
ছবি- বাফুফে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০৫
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। অভিষেকের পর তাই আনন্দিত বাংলাদেশের জাপানি বংশোদ্ভূত উইঙ্গার শুকি ইতোফুসা। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। আরও পরিশ্রম করে ফিটনেস বাড়ানোর পাশাপাশি গোল ও অ্যাসিস্টে দলের জন্য বেশি অবদান রাখতে চান তিনি।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন শুকি। তার আগেই ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৫২ মিনিটে আরও এক গোল হজম করে দল। এমন পরিস্থিতিতে অভিষেক হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগটিকেই বড় করে দেখছেন শুকি।
অভিষেক নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং সেই জার্সিতে মাঠে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গতকালের ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, এখনও কিছু জায়গায় আমার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে। আমি আমার ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। পাশাপাশি গোল করা বা অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে দলের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে চাই।’
প্রথম ম্যাচেই জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, এমনটা অবশ্য ভাবেননি শুকি। তবে দেশের হয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ দলে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল শুকির। সতীর্থরা জাপানি ভাষা না জানলেও ইংরেজি ও ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। সতীর্থদের কাছ থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছেন এই তরুণ।
পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকার বিষয়টিকেও সমস্যা হিসেবে দেখছেন না শুকি। বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে পরিবারের স্বপ্নও জড়িয়ে আছে বলে মনে করেন তিনি। ‘পরিবার থেকে দূরে থেকে আমি যদি সফল হতে পারি, তাহলে সেটা আমার পরিবার এবং আরও অনেক মানুষের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, পরিবার থেকে দূরে থাকাটা কোনো সমস্যা নয়।’
সাইতামায় জন্ম নেওয়া শুকির বাবা আতাউর রহমান বাংলাদেশি এবং মা জাপানি। বাবার দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন থেকেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ফুটবলে ফর্টিস এফসিতে খেলার পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে কোচ থমাস ডুলির নজরে আসেন এই উইঙ্গার।
বাংলা ভাষার সঙ্গেও শুকির সম্পর্কটা পারিবারিক। বাসায় শুধু তার বাবা বাংলায় কথা বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাধারণত জাপানি ভাষাতেই কথা বলেন তিনি।
- বিষয় :
- শুকি ইতোফুসা
- বাংলাদেশ ফুটবল
- আসিয়ান কাপ