৬২ বছর পর রাবির গ্রন্থাগারে বসছে লিফট, হচ্ছে ‘ডিজেবল কর্নার’
ছবি: সমকাল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৮
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার ৬২ বছর পর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য লিফট, ‘ডিজেবল কর্নার’ ও পৃথক শৌচাগারসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। গ্রন্থাগারের চলমান সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে এসব সুবিধা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। গ্রন্থাগারে তাদের পড়াশোনার জন্য আলাদা টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থাও ছিল না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
চলতি বছর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংস্কারকাজ শুরু হলে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে একটি লিফট স্থাপন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কক্ষ, ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক বিশেষ শৌচাগার এবং শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও মোটরসাইকেল রাখার জন্য নির্দিষ্ট গ্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, লিফট না থাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রন্থাগারের পূর্ণাঙ্গ সেবা নিতে পারছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আর্থিক সহযোগিতায় দ্রুত একটি লিফট স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের গ্রন্থাগারে যাতায়াতের সমস্যা দূর হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, গ্রন্থাগারের একটি কক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডিজেবল কর্নার’ তৈরি করা হবে। সেখানে তাদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েদের জন্য দুটি পৃথক বিশেষ শৌচাগার তৈরি করা হবে।
গ্রন্থাগারের বাইরের অংশে শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও মোটরসাইকেল সুশৃঙ্খলভাবে রাখার জন্যও গ্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা দত্ত বলেন, আগে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে অনেক কষ্ট হতো। লিফট স্থাপন করা হলে চলাচল অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি ‘ডিজেবল কর্নার’ চালু হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারবেন।