ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ঘটনার শঙ্কা

ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ঘটনার শঙ্কা
×

আত্রাইয়ের রতনডারি খালে ভেঙে যাওয়া সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে শিশুরা সমকাল

 রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ছোটডাঙ্গা বাজারে রতনডারি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এক বছর আগে ভেঙে গেছে। দীর্ঘ এক বছরেও সেতুটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে মাঝেমধ্যে পথচারী ও যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। একাধিক স্থানে গর্ত ও ফাটল তৈরি হওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রতনডারি খালের ওপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে উছুল কাশিমপুর, ঝনঝনিয়া, ছোটডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। আগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সমতল না থাকায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এর মধ্যে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এক বছর আগে সেতুর মাঝখানের অংশ ভেঙে ধসে পড়ে। বর্তমানে ভাঙা স্থানে কাঠের পাটাতন বিছিয়ে কোনো রকমে হালকা যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এছাহক সরকার বলেন, ‘ভাঙা সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খালের উত্তর মাঠে আমাদের কৃষিজমি রয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা বা মালামাল পরিবহনে ভোগান্তির শেষ নেই। গত সপ্তাহে লিটন নামের এক কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়। পরে মাত্র ৩৮ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করতে হয়েছে।’ ছোটডাঙ্গা গ্রামের গকুল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে সিমেন্ট বোঝাই ভ্যান নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় ভাঙা অংশে উল্টে খালের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় সব সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। 
ছোটডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হোসেন জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রায় তিন মাস আগে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এরপর ওই দপ্তর থেকে প্রতিনিধি এসে পরিদর্শনও করেছেন। এ ছাড়া বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।
সাহাগোলা ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, ‘নতুন সেতু নির্মাণের জন্য কয়েকবার আবেদন করেছি। ভেবেছিলাম অন্তত সংস্কার করা হবে, কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পার হলেও কোনো কাজ হয়নি।’
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিশ কুমার সরকার জানান, আবেদন পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

×