ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের, বসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

চিকিৎসক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের, বসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
×

অব্যবহৃত পড়ে আছে দরগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের কক্ষ সমকাল

 মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছয়জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও তারা সেখানে বসেন না। তারা বসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। চিকিৎসকদের পরিবর্তে ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টরা। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার উপজেলার চারটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে এ তথ্য জানা যায়। ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রে বাকিরা উপস্থিত থাকলেও থাকেন না শুধু চিকিৎসকরা।
সাটুরিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ধানকোড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে রয়েছেন ডা. মো. হাবিবুর রহমান। তিল্লি ইউনিয়নের 
চরতিল্লি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. তাসনিমা আজিজ। 

একই ইউনিয়নের তিল্লি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. মো. সালামত আলী। তিনি প্রেষণে আছেন এমআইএস (স্বাস্থ্য) অধিদপ্তরে। দ্বিমুখা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য রয়েছেন ডা. রিফাত মজিদ। 
বালিয়াটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য। দরগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. রওশক লায়লা বর্তমানে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত আছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলেও সংশ্লিষ্ট তিন মেডিকেল অফিসারকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দরগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, এই কেন্দ্রে আমার চাকরির বয়স ৯ বছর। এই ৯ বছরে এখানে একজন মেডিকেল অফিসারও পাইনি। রোগীদের সেবা আমরা দিয়ে যাচ্ছি। একই কথা জানালেন ধানকোড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম।
চর তিল্লি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা আক্তার বলেন, আমরা চরের মানুষ। এ উপকেন্দ্রে একজন বড় ডাক্তার থাকলেও তিনি আসেন না। আমরা গেলে যারা বসে আছেন তাদের রোগের কথা বলি। তারা কিছু ট্যাবলেট দিয়ে দেন। 

ধানকোড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমুদ্দিন জানান, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলে কী হবে। এখানে ডাক্তার নেই। যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা ও ফার্মাসিস্ট। তিনি আরও বলেন, বড় ডাক্তার যদি বসতেন তাহলে গরিব মানুষ ভালো চিকিৎসা পেত। শুনেছি এখানে একজন বড় ডাক্তার আছেন। কিন্তু তাঁর চেহারাটা কোনোদিন রোগীরা দেখেননি।
সাটুরিয়ার বাসিন্দা ও ক্রীড়াবিদ মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, উপজেলায় ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার দেওয়া আছে। তারা যদি সপ্তাহে তিন দিনও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বসে রোগী দেখতেন, তাহলে সাটুরিয়া হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকত। এসব কর্মরত চিকিৎসক নিজ কর্মস্থলে না বসে প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আমাদের গ্রামঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে 
বঞ্চিত হচ্ছে।
সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো যদি পিরামিড সদৃশ কাঠামোয় আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যায়, তবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগীর সমস্যার সমাধান গ্রামেই সম্ভব হবে। এর ফলে শহরের বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন ডাক্তার বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। এত ডাক্তারের বসার সংকুলান হয় না। এর মধ্যে তিনজন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকও এখানে বসেন। তারা তাদের কর্মস্থলে বসেন না। তারা রোগী দেখেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। কেন তারা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
 

আরও পড়ুন

×