নির্বাচন কমিশনের অসংগতি
ভারতে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান
দিল্লির অশোকা রোডে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভবন। ছবি-সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:০৩ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। এর আগে একাধিকবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও নতুন করে ভোটার তথ্য হালনাগাদ-সংক্রান্ত কর্মসূচি এসআইআরের বিষয়ে আসা খবরে নড়চড়ে বসেছে সবাই। জানা গেছে, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন ওই কর্মসূচির নানা অসংগতির বিষয়ে উল্লেখ করে এর আগে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন। তবে সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে, ওই ভোটার তথ্য হালনাগাদ কর্মসূচির কারণে দেশটির ৩০টি রাজ্যের বহু ভোটার ভোটাধিকার হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কার্যত কে ভোট দিতে পারবে, কে পারবে না– এমন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল অতীতে। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, পুরো বিষয়টি ইসিআইয়ের নির্ভরযোগ্যতাকে নতুনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জানা যায়, ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। অন্য দুই কমিশনার সুখবির সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন এসআইআরের কার্যকলাপ নিয়ে। গোটা ঘটনাটিই ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সান্ধু ও জোশি এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছেন, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
নির্বাচন কমিশনের এই কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রথম তুলে ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তাদের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিয়েই এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন দাবি করে, আংশিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যমের একাংশ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
যা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতারা
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আপনারা যা করেছেন, তা অপরাধ। দেশদ্রোহ ও দেশবিরোধী কাজ।’ সবাইকে ধরা হবে এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানান, অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করা হোক। এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলসহ দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় বিধানসভার ভোট বাতিল করে পুরোনো তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করারও দাবি জানান তিনি। শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা উদ্ধব ঠাকরেও মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি জানান।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থি দল সিপিআইএম ও সিপিআই-এমএলও পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার জেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, জ্ঞানেশের জন্যই বিজেপি ২০২৪ সালের ভোটে জিতেছে। পরের দুই বছরের সব ভোটেও কমিশনের কারণে তারা জয় পেয়েছে। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে ভোট লুট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতা জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেন ও বিক্ষোভের বার্তা দেন।
সরব সিজেপি, তিন দাবি
এদিকে, আবার দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রেশার গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের তিন দাবি তুলে ধরেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারা।
প্রথম দাবিতে, জ্ঞানেশের পদত্যাগের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরুরও দাবি জানিয়েছে সিজেপি। দ্বিতীয় দাবিতে সব নির্বাচন স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকা পুনরায় ফিরিয়ে আনা ও এসআইআরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা। তৃতীয় দাবি হলো, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন ও সেই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে তারা।
পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিজেপির খরচ ৫২৯ কোটি, অর্ধেকের বেশি পশ্চিমবঙ্গে
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের বেশির ভাগই খরচ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পণ্ডিচেরি ও পশ্চিমবঙ্গ– এই পাঁচ রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের মোট নির্বাচনী ব্যয় হয়েছে ৫২৯.৩৮ কোটি রুপি। এর মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৭ কোটি রুপি, মোট ব্যয়ের প্রায় ৫৪ শতাংশ।
হিসাব বলছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ দলীয় প্রচারে বিজেপি ব্যয় করেছে ২১৭.১৬ কোটি রুপি। প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতে খরচ হয়েছে আরও ৬৯.৮৩ কোটি রুপি, যার মধ্যে ৫৮.৮০ কোটি রুপি সরাসরি প্রার্থীদের দেওয়া হয়েছিল।
- বিষয় :
- ভারত
- নির্বাচন কমিশন
- রাজনৈতিক দল