নাগরিকের স্বস্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা
ছবি- এআই দিয়ে তৈরি
মকবুল হোসেন মজুমদার
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জীবিকার অনিশ্চয়তা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে, তখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পরিসংখ্যান তার কাছে কতটা অর্থবহ– সে প্রশ্ন থেকেই যায়। রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে নয়; বরং একজন সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বস্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারছেন, তার মধ্যে উন্নয়নের প্রকৃত মূল্যায়ন নিহিত।
ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য। বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকা, বিচারপ্রার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষা এবং আইনি জটিলতায় সাধারণ মানুষের অসহায় হয়ে পড়া কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। বিচার বিলম্বিত হলে শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হয় না, ক্ষয়ে যায় মানুষের আস্থা। রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়া যে কোনো সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।
একজন মায়ের কান্না, একজন বাবার অসহায়ত্ব কিংবা একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা কাগজের কোনো সংখ্যা নয়। এগুলো মানুষের জীবন। প্রতিটি ন্যায়বিচারহীনতার পেছনে থাকে কোনো না কোনো মানুষের অসমাপ্ত গল্প। তাই বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে মানুষের আশ্রয়ের জায়গা–ভয়ের নয়, হয়রানির নয়; ন্যায় ও আস্থার জায়গা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। মানুষের ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্যায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রে যদি পরিশ্রমী মানুষ বারবার বঞ্চিত হয় আর অন্যায় সুবিধাভোগীরা পুরস্কৃত হয়, তাহলে সেখানে শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়, নৈতিক সংকটও তৈরি হয়।
এই অন্ধকারের মধ্যেও আশার জায়গা আছে। সেই আশা মানুষের মধ্যে। কারণ মানুষ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে শেখে, তখন পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
মকবুল হোসেন মজুমদার: ঢাকা
- বিষয় :
- নাগরিক