শিক্ষকের পেশাগত মানোন্নয়নের দায়
মো. খালিদ হোসেন
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৬ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, পাঠ্যপুস্তক সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা, ধারাবাহিকতার অভাব ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতার অভাব ইত্যাদি কারণে এখনও এ দেশে একটি শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি, যার নেতিবাচক প্রভাব সব জায়গায় দৃশ্যমান।
শিক্ষাক্রম প্রণীত হওয়ার পর সেটি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক, পাঠ্যবই, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষাসামগ্রী, প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রশিক্ষণ–সবকিছু সমন্বিতভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। অথচ অনেক সময় সংস্কারের পরিকল্পনা আগে আসে, আর মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি পরে শুরু হয়। ফলে কাগজে যে শিক্ষা-দর্শন অত্যন্ত আকর্ষণীয়, শ্রেণিকক্ষে তা অনেক সময় প্রত্যাশিত রূপ পায় না।
কাঠামো এবং সর্বোপরি শিক্ষকের মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ।
শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো শিক্ষক। একটি চমৎকার শিক্ষাক্রম, আধুনিক পাঠ্যবই কিংবা ডিজিটাল উপকরণও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া কার্যকর হতে পারে না। শিক্ষককে শুধু নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়েছে মনে করলে চলবে না। প্রয়োজন ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সহায়তা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য পিটিআই, ইউপিটিসিসহ বিভিন্ন কাঠামো রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণের সংখ্যা দিয়ে মান বিচার করা যায় না। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কী পরিবর্তন আনতে পারলেন, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য। আরেকটি বিষয় হলো শিক্ষককে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও অপ্রাসঙ্গিক দায়িত্বের চাপ থেকে যতটা সম্ভব মুক্ত রাখা। শিক্ষক যত বেশি বাইরের কাজে সময় ব্যয় করবেন, শ্রেণিকক্ষে শিশুর সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য তাঁর সময় তত কমে যাবে।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো শিক্ষকের সুষম বণ্টন। এ দেশে একজনকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য কারও অধিকার হরণ করার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। এতে ভুক্তভোগীর মনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা তাঁর দায়িত্ব পালনে এবং নিবেদিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের বৈষম্য শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রকাশ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগকেও অসম করে তুলছে। দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার যেমন কিছু ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি দীর্ঘ সময় একই পরিবেশে অবস্থান কখনও কখনও পেশাগত স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
মো. খালিদ হোসেন: সহকারী শিক্ষক, দক্ষিণ তাজপুর সপ্রাবি, মিঠাপুকুর, রংপুর
kh.noor9917@gmail.com
- বিষয় :
- শিক্ষা