দপদপিয়া সেতুতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
মো. ইমরান
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থিত দপদপিয়া সেতু যেন এক মরণফাঁদ। ২০১১ সালে সেতুটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ২৮ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। পাশাপাশি অসংখ্য যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে। সেতুর বিভিন্ন অংশের বেহাল, পিচ উঠে যাওয়া, বড় বড় গর্ত এবং যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে দিন দিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দপদপিয়া সেতু ও সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সেতুতে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেতুর ঢালে বাসচাপায় তিন স্কুলছাত্র প্রাণ হারায়। ২০২৩ সালের ২৩ জুন দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের আগস্টে সেতু এলাকায় বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতসহ তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এগুলো শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য। বাস্তবে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, আহত হওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির অনেক ঘটনা হয়তো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। ফলে প্রকৃত হতাহত ও দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হবে।
বারবার দুর্ঘটনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সংস্কারের নামে অনেক সময় শুধু ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়। কিছুদিন পর আবারও একই স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয় এবং সেতুটি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এভাবে সাময়িক সংস্কার করে মানুষের
জীবন ঝুঁকির মধ্যে রাখা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
দপদপিয়া সেতুর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই আর কোনো প্রাণহানি ঘটার আগে সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার, গর্ত ভরাট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল; সেটি যেন তাদের মৃত্যুর কারণ না হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানাই।
মো. ইমরান: শিক্ষার্থী, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- বিষয় :
- সেতু