ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি
×

ছবি: সমকাল

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৫১

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও।

রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় ঝড়টি আঘাত হানে। এতে বসতঘরের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম। গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকায় তাঁর বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে টিন ও কাঠের খুঁটি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে নতুন ভিটায় নতুন ঘর করেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমাকে সহযোগিতা করলে খুব উপকার হতো।’

ঝড়ে গোরকপুর ও পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধবা রাহিলার বসতঘরও ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। অনেক কষ্টে দিন কাটে। ঝড়ে আমার ঘরটাও ভেঙে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঝড়ে তাঁর ঘরের চালা উড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর স্ত্রী রেনুয়ারা জানান, রুবেলকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা আজি রহমানের বসতঘর ও গোয়ালঘরও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ঘরের চারটি চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোয়ালঘরে থাকা একটি গরুর পা কেটে গেছে। এ ঘটনায় তাঁর দুই ছেলেও আহত হয়েছেন।

গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ঝড়ে বসতবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও সবজিরও ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের পর থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হয়েছি। একটি টিম ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় ইউপির সাবেক সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার এলাকায় রাতে প্রচণ্ড ঝড় হয়েছে। সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।’

ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।

আরও পড়ুন

×