ময়মনসিংহ
হত্যা মামলা নিতে দুই থানার টালবাহানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৮
ময়মনসিংহের ভালুকায় চুরির অপবাদে সুজন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ১৩ দিন পার হলেও কোনো মামলা হয়নি। আইনি সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ফলে বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিহত যুবকের পরিবার।
নিহত সুজন মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার আবদার পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় এক ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
চেতনা ফেরার পর মৃত্যুর ঠিক আগে সুজন স্থানীয়দের জানান, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে এখানে এনে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ গ্রামে লাশটি দাফন করা হয়। নিহত সুজনের দুই সন্তান নানা বাড়িতে থাকে এবং তাঁর স্ত্রী জর্ডান প্রবাসী।
ঘটনার পর ১৩ দিন পার হলেও কোনো থানাতেই মামলা হয়নি। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, মারধরের মূল ঘটনাটি ঘটেছে ভালুকা থানা এলাকায়। ময়নাতদন্তের সব তথ্য ও নথিপত্র ভালুকা থানায় পাঠানো হয়েছে। আইনগতভাবে মামলা ভালুকা থানাতেই হতে হবে, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
ভালুকা থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, মারধরের ঘটনা ভালুকায় হলেও ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। তাই তাদের এখানে সরাসরি মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রীপুর থানা মামলা নেওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনে সহায়তা চাইলে তা করবেন তারা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনা যদি ভালুকায় হয়ে থাকে, তবে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাদের আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ