গান কবিতায় শান্তির আহ্বান
ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের পরিবেশনা ছবি :: শাদাব শাহরোখ হাই
তরু শাহরিয়ার স্বর্গ/ নন্দন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বশান্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শমযাত্রা ২০২৬’। গান, কবিতা, কথামালা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি, সহাবস্থান এবং মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শকের ছিল স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
ভৈরবীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মূল ভাবনা ছিল–হিংসা থেকে শান্তি, বিভাজন থেকে সহাবস্থান এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষের কাছে মানুষের প্রত্যাবর্তন। গান, কবিতা, স্মৃতি, প্রশ্ন ও অপেক্ষার মধ্য দিয়ে ‘শমযাত্রা’ এগিয়ে যায় শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিষয়ে দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক কাজের প্রেক্ষাপটে তাঁর উপস্থিতি আয়োজনটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইলিয়াস নবী ফয়সাল। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, ভৈরবী। তিনি বলেন, “শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়; শান্তি হলো মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহাবস্থান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিল্প ও সংস্কৃতি সেই প্রক্রিয়ায় মানুষের অনুভূতি, প্রশ্ন ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে। ‘শমযাত্রা’ সেই জায়গা থেকে আমাদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যাত্রা; যেখানে আমরা যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে মানুষের কাছে মানুষের ফিরে আসার কথা বলতে চেয়েছি।”
অনুষ্ঠানের শুরু হয় ‘ধ্বনিল আহ্বান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় শান্তি, মানবতা, সাম্য, যুদ্ধবিরোধিতা, ভালোবাসা, সহাবস্থান ও মানুষের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রচিত বিভিন্ন গান ও কবিতা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ভৈরবী, কণ্ঠ বুয়েট, জগন্নাথ আবৃত্তি সংসদ, উদীচী–জগন্নাথসহ বিভিন্ন শিল্পী ও পরিবেশক। একক ও সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক অবস্থান, সীমান্ত ও বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
গান ও কবিতার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কথামালায় উঠে আসে যুদ্ধ, সীমান্ত, ধর্ম, ক্ষমতা, মানুষের অধিকার, ঘরহারা মানুষের বেদনা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘শমযাত্রা’ কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়, বরং মানুষের শান্তির জন্য একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক উচ্চারণ হিসেবে আয়োজনটির মধ্য দিয়ে সামনে আসে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানবিকতার প্রত্যাশাকে আরও গভীর ও আবেগঘনভাবে তুলে ধরা হয়।
‘চন্দনী রে, ও চন্দনী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শমযাত্রা ২০২৬’।
পৃথিবী বারবার সংঘাত, বিভাজন ও ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও মানুষের গান, কবিতা, ভালোবাসা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা কখনও থেমে থাকে না। সেই বিশ্বাস থেকে ‘শমযাত্রা’ শান্তির পথে একটি সাংস্কৃতিক যাত্রা। এমনটি জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শিল্পের এই ভাষা দর্শকের হৃদয়ে শান্তির স্বপ্ন, মানবিকতার বোধ এবং সহমর্মিতার শক্তিকে আরও গভীরভাবে জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় তৈরি করেছে। গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে শান্তির এই বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে আয়োজকদের।
- বিষয় :
- বিনোদন