প্রতি বছরের এই সময় আমাদের দেশে পেঁয়াজের একটি সংকট তৈরি হয়। গত কয়েক বছরের প্রবণতা এবং তথ্য তুলনা করলেই দেখা যাবে, এ সময়টা পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ প্রবণতা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ সময় দেশি পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে আসে। ফলে দাম কিছুটা বাড়লে তা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি বা হাহাকারের কিছু নেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটা পরিবারে দেড় কেজি থেকে ৬ কেজি পেঁয়াজ লাগে মাসে। এই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে বাড়তি যে খরচ হয়, তা কিছু মানুষের জন্য বড় সমস্যা। তবে অনেক পরিবার আছে দিনে কফি খেয়ে খরচ করে দুই হাজার টাকা, তারাও পেঁয়াজের বাড়তি দর নিয়ে হাহাকার করে। দাম বাড়ছে, আরও বাড়বে, এই চিন্তা থেকে সুযোগ সন্ধানী মজুদদারদের মতো রান্নার পেঁয়াজও কিনে মজুদ রাখি আমরা। এই সুযোগটাই হয়তো কাজে লাগায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তারা চাহিদা এবং জোগানের ব্যবধান বুঝে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
কয়েক বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ স্থানীয়ভাবেই জোগান দেওয়া হচ্ছে এখন। বাকিটা আমদানি করা হয়। আমদানির একটা বড় অংশই আসে ভারত থেকে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। ফলে পেঁয়াজ আসতে কোনো বাধা নেই। জানুয়ারি নাগাদ দেশি নতুন পেঁয়াজও বাজারে উঠবে। এর আগেই মুড়ি পেঁয়াজ নামে কিছুটা অপরিণত পেঁয়াজ পাওয়া যাবে বাজারে। তখন বাজার আবার স্বাভাবিকের তুলনায়ও কমে আসবে। এসব বিবেচনায় আমি বলব, পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত কিংবা হাহাকারের কারণ নেই। বেশি কিনে ঘরে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।
তবে একথাও ঠিক, স্বল্প আয়ের মানুষের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। সরকার টিসিবির মাধ্যমে সহনীয় দামে তাদের হাতে পেঁয়াজ পৌঁছাতে পারে। এখনকার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সরকার তা করতে পারত। টিসিবির খোলাবাজারে বিক্রি কার্যক্রম যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। এই কার্যক্রম আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। সেটা সম্ভব হলে শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য নিত্যপণ্য নিয়েও সাধারণ মানুষের কষ্টটা কমবে। বিশেষ করে করোনার কারণে অনেকে কাজ হারিয়েছে, অনেক পরিবার সংকটে পড়েছে। তাদের কাছে টিসিবিই ভরসার বড় জায়গা।
লেখক:অর্থনীতিবিদ