ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্য ফাঁসে সর্বনাশ

তথ্য ফাঁসে সর্বনাশ
×

প্রতীকী ছবি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

সরকারি সংস্থার একটা ওয়েবসাইট হইতে দেশের অন্তত পাঁচ কোটি নাগরিকের নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হইবার সংবাদ সংখ্যা ও গুণগত উভয় প্রেক্ষিতেই ভয়াবহ। ইহার পূর্বেও বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা ঘটিয়াছিল; তবে মাত্রা ও ব্যাপ্তির দিক হইতে ইহা সর্ববৃহৎ।

আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটক্র্যাকের জনৈক গবেষক বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক নাগরিকের স্পর্শকাতর তথ্যসমূহ পাবলিক সার্চ টুলে যেইরূপে সহজলভ্য দেখিয়াছেন, উহাও কম উদ্বেগজনক নহে। ইহার অর্থ, শুধু ফাঁসকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নহে, অন্যরাও এই সকল তথ্য হস্তগত করিতে থাকিবে। রবিবার সমকালে প্রকাশিত এতৎসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, যেই সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট হইতে তথ্য ফাঁস হইয়াছে, উহার সেবা পাইতে গ্রাহকগণকে অর্থ লেনদেনের তথ্যও প্রদান করিতে হয়। ফলে তথ্য

ফাঁসের শিকার নাগরিকগণের আর্থিক গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে রহিয়াছে। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্টরা বিষয়কে হালকাভাবে লইবার অবিমৃষ্যকারিতা করিবে না। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে তথ্য ফাঁস মানেই সর্বনাশ।

সাইবার নিরাপত্তা হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় গঠিত সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম-‘সার্ট’ শনিবার যদিও বিশদ তদন্ত শুরুর কথা বলিয়াছে, আমরা বৃক্ষের পরিচয় ফলের মাধ্যমেই দেখিতে চাহিব। বিশেষত ২০১৬ সালে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হইতে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির পর সাইবার নিরাপত্তায় অধিক সতর্কতা কাম্য ছিল। কিন্তু চলতি বৎসরের জুন মাসেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে এবং মার্চ মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সাইবার হামলা ঘটিয়াছিল। একেকটি ঘটনার পর সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা লইয়া তোড়জোড় দৃশ্যমান হইলেও সর্বশেষ অঘটনটি সংশ্লিষ্টদের মহাকাব্যিক ব্যর্থতাই তুলিয়া ধরিল। ইহার সহিত সাম্প্রতিক সাইবার হামলাগুলির যোগসূত্রের সুলুক সন্ধান জরুরি। সর্বাগ্রে প্রয়োজন ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’। যত দ্রুত সম্ভব তথ্যগুলি উন্মুক্ত অনলাইন পরিসর হইতে মুছিয়া ফেলিতে হইবে। কাহারও অর্থ যাহাতে খোয়া না যায়– তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে যে কোনো মূল্যে।   

দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম এই তথ্য ফাঁস মোকাবিলা, তৎসহিত সরকারি সকল ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা কাটাইয়া উঠিতে সর্বাত্মক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এই ক্ষেত্রে অবহেলা ও অদক্ষতা হইবে আত্মঘাতের নামান্তর। আমরা জানি, সরকারের তথ্য বাতায়ন সংক্রান্ত পোর্টালগুলিসহ দেশে অন্যূন ৪০ সহস্র সরকারি ওয়েবসাইট রাতারাতি সুরক্ষিত করা সম্ভব নহে।

তবে সেই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সার্ভার ও ওয়েবসাইট সুরক্ষিত রাখিতে হইবে। কারণ নাগরিকগণের সর্বাপেক্ষা স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্যাবলি এই সকল সংস্থার নিকট রহিয়াছে। আর যাহাদের অবহেলা ও ঔদাসীন্যে এইরূপ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির উদ্ভব, তাহাদের শনাক্ত ও শাস্তি না হইলে ভবিষ্যতে অধিক বিপর্যয় দেখিতে হইতে পারে

আরও পড়ুন

×