আন্তর্জাতিক
রাশিয়া-ইউক্রেন অসম যুদ্ধে পশ্চিমাদের দায়
×
মঞ্জুরে খোদা
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২ | ১২:০০
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর টেলিভিশনের পর্দায় যে হেডলাইনটি চোখে পড়ল তা হচ্ছে, এ যুদ্ধের জন্য দায়ী কে? কেন এই যুদ্ধ অনিবার্য হলো? এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দিতে চাওয়ার বিষয় ও মার্কিন পক্ষের সমর্থন।
ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রতি জার্মান পত্রিকা জানাচ্ছে, ১৯৯১ সালে দুই জার্মানি একত্রীকরণের সময় মার্কিন, ব্রিটিশ, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল- তারা ন্যাটোতে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ থেকে নতুন কোনো সদস্যপদ দেবে না। জার্মানির কূটনীতিকও জোর দিয়ে বলেছেন, ১৯৯০ সালে রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল- ন্যাটোকে বাল্টিক অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হবে না।
জার্মান সংবাদপত্র ডের স্পিগেলে আগে ২০১৯ সালে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোশুয়া শিফ্রিনসন এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। প্রথম স্নায়ুযুদ্ধ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৪টি দেশ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে। ১৪ বার ন্যাটোর সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ড, ২০০৪ সালে বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভেনিয়া; ২০০৯ সালে আলবেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া; ২০০৭ সালে মন্টিনিগ্রো, ২০২০ সালে উত্তর মেসিডোনিয়া এবং এর সম্প্রসারণের তালিকায় ছিল ইউক্রেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং জর্জিয়া।
সে নথি আরও প্রমাণ দেয়, পশ্চিমা শাসকরা জার্মানির একত্রীকরণের পরে জার্মানির পূর্বদিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। যদিও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, ন্যাটো সামরিক জোট কখনোই প্রতিজ্ঞা করেনি। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত গোপন দলিল প্রমাণ করে, তার সে বক্তব্য মিথ্যা এবং রাশিয়াকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতির পরিস্কার লঙ্ঘন।
এটা রাশিয়া-ইউক্রেনের অসম যুদ্ধ। কিন্তু এ যুদ্ধকে মনে করা হচ্ছে মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার মর্যাদার লড়াই। জনমতের বিভাজনগুলো হয়েছে অনেকটা সে রকমই। শক্তির দিক থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার তুলনা চলে না। সেটা না চললে, সে দেশের শাসক এত বড় একটা সিদ্ধান্ত-ঝুঁকি নিলেন কীসের ভিত্তিতে? কোন শক্তি ও সাহসের বলে? যে কোনো দেশের স্বাধীনভাবে চলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ইউেক্রনকে কেন ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে? তার মানে, তারা কি রাশিয়াকে হুমকি মনে করে?
এটা ইউক্রেনের না জানার বিষয় নয় যে, মার্কিনিদের সঙ্গে তাদের মাখামাখি রাশিয়া ভালোভাবে নিচ্ছে না। এ জন্য ইউক্রেনকে অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে- সে কথা রাশিয়ার ঘোষিতই ছিল। সেটা জানার পরও ইউক্রেন কেন তার অবস্থানে অনড় ছিল? আর সে অনড় থাকার কারণ নিশ্চয় নিজের শক্তির ওপর নয়। কিন্তু অন্যের শক্তিতে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইটা সহজ নয়; নানা স্বার্থের সুতায় বাঁধা।
প্রশ্ন হচ্ছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো কি ন্যাটোর সদস্য? কিউবা কি ন্যাটোর সদস্য? তারা মার্কিন হুমকি, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে টিকে আছে কীভাবে? ইরান, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়াসহ আরও কিছু দেশ পশ্চিমাদের নানা হুমকি-অবরোধ অগ্রাহ্য করে যুগ যুগ ধরে টিকে আছে কীভাবে?
আজকে যারা বা যেসব রাষ্ট্র রাশিয়ার হামলা-আগ্রাসনের বিরোধিতা করছেন, তারা কি মার্কিনিদের ইরাক, আফগানিস্তান অথবা লিবিয়ায় হামলার সময় বিরোধিতা করেছিলেন? রাশিয়া তখন মার্কিন হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তখন কে শুনেছিল তাকে? সেদিন এই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো মার্কিনেরই সমর্থক ও সহযোগী হয়েছিল। মার্কিন ও তার মিত্রদের হামলা-আক্রমণগুলোর কোনোটাই মার্কিনিদের জন্য হুমকি ছিল না। আক্রান্তরা তাদের প্রতিবেশীও ছিল না। সেটা ছিল অধিক অন্যায্য ও অন্যায়।
কথা হচ্ছে, পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকা নানা কারণে ব্যর্থ, পর্যুদস্ত ও অপমানিত। তাদের দেশে চলছে অর্থনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা। রাজনীতিতে আছে দ্বন্দ্ব-বিরোধ। শাসক হিসেবে বাইডেন জনপ্রিয়তার সর্বনিল্ফেম্ন অবস্থানে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আওয়াজ উঠছে। নানা সংকটে আছে ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার নানা দেশ। রাশিয়া এখন শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে। অতীতের বৈরিতা ভুলে সে চীনের সঙ্গে দোস্তি করেছে। সে সময় পশ্চিমাদের অবজ্ঞা তাকে আরও বেপরোয়া করেছে।
যে কোনো যুদ্ধেই সামরিক হামলার কারণে সাধারণ নাগরিকরাই অধিক হতাহত, বিপর্যয়, ভুক্তভোগীর স্বীকার হয়। যুদ্ধের কারণে শত্রু-মিত্র সমীকরণে যে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়, সেখানে রাজনীতিকদের চেয়ে সাধারণ নাগরিকরাই অধিক বিপর্যয় ও ক্ষতির স্বীকার হয়।
যুদ্ধের কারণে পণ্য উৎপাদন, সরবরাহে ঘাটতি-সংকট তৈরি হয়। সে কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ে। অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে পণ্য সরবরাহে সংকট ও দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পায়। পণ্যের সংকটে সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি হয়। সেটা শুধু অভিযুক্ত দেশ নয়; সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। যারা এ সিদ্ধান্ত আরোপ করেন, তাদের নাগরিকরাও এ দুর্ভোগ থেকে মুক্ত নয়।
রাশিয়া জ্বালানি তেল উৎপাদনেও পরাশক্তি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও উচ্চমূল্য কার পকেটে যাচ্ছে? নাগরিকদের অর্থ আটকে, সুইফট সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়ায় কাদের ক্ষতি হচ্ছে? ক্ষতি হচ্ছে ঘুরেফিরে সাধারণ নাগরিকদেরই। দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সংকটের কারণে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের সময় মানুষ শুধু গুলি-বোমায়ই মারা যায় না; খাদ্য ও পণ্য সংকটেও মারা যায়।
যুদ্ধ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সেটা আসে রাজনীতিকদের কাছ থেকে। গণহারে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে তাতে রাজনীতিকরা কতটা ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন? মিডিয়াতে গুলি-বোমায় মৃত্যুকে বড় করে দেখানো হয়, প্রচার করা হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে যে মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষতি হয়, তাকে সামনে আনা হয় না। সেটাই যুদ্ধের রাজনীতির একটি বড় সংকট ও শঙ্কা।
ড. মঞ্জুরে খোদা: লেখক-গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক
ব্রিটিশ ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রতি জার্মান পত্রিকা জানাচ্ছে, ১৯৯১ সালে দুই জার্মানি একত্রীকরণের সময় মার্কিন, ব্রিটিশ, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল- তারা ন্যাটোতে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ থেকে নতুন কোনো সদস্যপদ দেবে না। জার্মানির কূটনীতিকও জোর দিয়ে বলেছেন, ১৯৯০ সালে রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল- ন্যাটোকে বাল্টিক অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হবে না।
জার্মান সংবাদপত্র ডের স্পিগেলে আগে ২০১৯ সালে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোশুয়া শিফ্রিনসন এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। প্রথম স্নায়ুযুদ্ধ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৪টি দেশ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে। ১৪ বার ন্যাটোর সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ড, ২০০৪ সালে বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভেনিয়া; ২০০৯ সালে আলবেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া; ২০০৭ সালে মন্টিনিগ্রো, ২০২০ সালে উত্তর মেসিডোনিয়া এবং এর সম্প্রসারণের তালিকায় ছিল ইউক্রেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং জর্জিয়া।
সে নথি আরও প্রমাণ দেয়, পশ্চিমা শাসকরা জার্মানির একত্রীকরণের পরে জার্মানির পূর্বদিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। যদিও মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, ন্যাটো সামরিক জোট কখনোই প্রতিজ্ঞা করেনি। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত গোপন দলিল প্রমাণ করে, তার সে বক্তব্য মিথ্যা এবং রাশিয়াকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতির পরিস্কার লঙ্ঘন।
এটা রাশিয়া-ইউক্রেনের অসম যুদ্ধ। কিন্তু এ যুদ্ধকে মনে করা হচ্ছে মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার মর্যাদার লড়াই। জনমতের বিভাজনগুলো হয়েছে অনেকটা সে রকমই। শক্তির দিক থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার তুলনা চলে না। সেটা না চললে, সে দেশের শাসক এত বড় একটা সিদ্ধান্ত-ঝুঁকি নিলেন কীসের ভিত্তিতে? কোন শক্তি ও সাহসের বলে? যে কোনো দেশের স্বাধীনভাবে চলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ইউেক্রনকে কেন ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে? তার মানে, তারা কি রাশিয়াকে হুমকি মনে করে?
এটা ইউক্রেনের না জানার বিষয় নয় যে, মার্কিনিদের সঙ্গে তাদের মাখামাখি রাশিয়া ভালোভাবে নিচ্ছে না। এ জন্য ইউক্রেনকে অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে- সে কথা রাশিয়ার ঘোষিতই ছিল। সেটা জানার পরও ইউক্রেন কেন তার অবস্থানে অনড় ছিল? আর সে অনড় থাকার কারণ নিশ্চয় নিজের শক্তির ওপর নয়। কিন্তু অন্যের শক্তিতে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইটা সহজ নয়; নানা স্বার্থের সুতায় বাঁধা।
প্রশ্ন হচ্ছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো কি ন্যাটোর সদস্য? কিউবা কি ন্যাটোর সদস্য? তারা মার্কিন হুমকি, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে টিকে আছে কীভাবে? ইরান, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়াসহ আরও কিছু দেশ পশ্চিমাদের নানা হুমকি-অবরোধ অগ্রাহ্য করে যুগ যুগ ধরে টিকে আছে কীভাবে?
আজকে যারা বা যেসব রাষ্ট্র রাশিয়ার হামলা-আগ্রাসনের বিরোধিতা করছেন, তারা কি মার্কিনিদের ইরাক, আফগানিস্তান অথবা লিবিয়ায় হামলার সময় বিরোধিতা করেছিলেন? রাশিয়া তখন মার্কিন হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তখন কে শুনেছিল তাকে? সেদিন এই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো মার্কিনেরই সমর্থক ও সহযোগী হয়েছিল। মার্কিন ও তার মিত্রদের হামলা-আক্রমণগুলোর কোনোটাই মার্কিনিদের জন্য হুমকি ছিল না। আক্রান্তরা তাদের প্রতিবেশীও ছিল না। সেটা ছিল অধিক অন্যায্য ও অন্যায়।
কথা হচ্ছে, পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকা নানা কারণে ব্যর্থ, পর্যুদস্ত ও অপমানিত। তাদের দেশে চলছে অর্থনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা। রাজনীতিতে আছে দ্বন্দ্ব-বিরোধ। শাসক হিসেবে বাইডেন জনপ্রিয়তার সর্বনিল্ফেম্ন অবস্থানে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আওয়াজ উঠছে। নানা সংকটে আছে ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার নানা দেশ। রাশিয়া এখন শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে। অতীতের বৈরিতা ভুলে সে চীনের সঙ্গে দোস্তি করেছে। সে সময় পশ্চিমাদের অবজ্ঞা তাকে আরও বেপরোয়া করেছে।
যে কোনো যুদ্ধেই সামরিক হামলার কারণে সাধারণ নাগরিকরাই অধিক হতাহত, বিপর্যয়, ভুক্তভোগীর স্বীকার হয়। যুদ্ধের কারণে শত্রু-মিত্র সমীকরণে যে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়, সেখানে রাজনীতিকদের চেয়ে সাধারণ নাগরিকরাই অধিক বিপর্যয় ও ক্ষতির স্বীকার হয়।
যুদ্ধের কারণে পণ্য উৎপাদন, সরবরাহে ঘাটতি-সংকট তৈরি হয়। সে কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ে। অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে পণ্য সরবরাহে সংকট ও দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পায়। পণ্যের সংকটে সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি হয়। সেটা শুধু অভিযুক্ত দেশ নয়; সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। যারা এ সিদ্ধান্ত আরোপ করেন, তাদের নাগরিকরাও এ দুর্ভোগ থেকে মুক্ত নয়।
রাশিয়া জ্বালানি তেল উৎপাদনেও পরাশক্তি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও উচ্চমূল্য কার পকেটে যাচ্ছে? নাগরিকদের অর্থ আটকে, সুইফট সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়ায় কাদের ক্ষতি হচ্ছে? ক্ষতি হচ্ছে ঘুরেফিরে সাধারণ নাগরিকদেরই। দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সংকটের কারণে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের সময় মানুষ শুধু গুলি-বোমায়ই মারা যায় না; খাদ্য ও পণ্য সংকটেও মারা যায়।
যুদ্ধ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সেটা আসে রাজনীতিকদের কাছ থেকে। গণহারে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে তাতে রাজনীতিকরা কতটা ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন? মিডিয়াতে গুলি-বোমায় মৃত্যুকে বড় করে দেখানো হয়, প্রচার করা হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে যে মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষতি হয়, তাকে সামনে আনা হয় না। সেটাই যুদ্ধের রাজনীতির একটি বড় সংকট ও শঙ্কা।
ড. মঞ্জুরে খোদা: লেখক-গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক
- বিষয় :
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
- মঞ্জুরে খোদা