ফের ছাত্রলীগের অগ্নিমূর্তি
অমরেশ রায় ও মাজহারুল ইসলাম রবিন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২১:২২
কখনও সন্ত্রাস-সহিংসতা, আবার কখনও ঘরোয়া বিবাদ গড়ায় মারামারিতে। দলীয় পদ কেনাবেচা, আবাসিক হলের সিট-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগ তো আছেই। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেদম পিটিয়ে ত্রাস সৃষ্টির ঘটনাও ঘটছে। সব মিলিয়ে আবার বেপরোয়া ছাত্রলীগ; ফের গণমাধ্যমে শিরোনাম ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি। ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের বেসামাল কর্মকাণ্ডের ডামাডোলে ফের উত্তেজনার পারদ চড়েছে দেশের নানা শিক্ষাঙ্গনে। এসব কারণে ছাত্রলীগের ঐতিহ্যের সুনামে পড়ছে দাগ; সরকারকেও হতে হচ্ছে বিব্রত।
সব শেষে ছাত্রলীগের অগ্নিমূর্তি দেখা গেছে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে। ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়ে সংগঠনটির
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। ওই
হামলার পুরোভাগে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের
সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন।
ছাত্রলীগের ইডেনকাণ্ডও দেশজুড়ে বইয়ে দিয়েছে আলোচনার ঢেউ। ইডেন মহিলা কলেজ
ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার
বিরুদ্ধে ওঠা সিট-বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে গত রোববার রাতে ক্যাম্পাসটিতে
হয়েছে লঙ্কাকাণ্ড। ছাত্রলীগের দু'পক্ষের মধ্যে হয়েছে চুলাচুলি, ধাওয়া-ধাওয়ি
আর চেয়ার ছোড়াছুড়ি। সংঘাতে ১০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সংগঠনটির
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে রাতেই ক্যাম্পাসছাড়া করে প্রতিপক্ষ। কেন্দ্রীয়
ছাত্রলীগ সেখানকার শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি ১৬
নেতাকর্মীকে বহিস্কার ও তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিস্থিতি ছাইচাপা দেওয়ার
চেষ্টা চালায়।
ঢাবি ও ইডেনের মতো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে দেশের কিছু জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে। এ পটভূমিতে পুরোনো প্রশ্নটি ফের সামনে এসেছে- এই ছাত্রলীগ কি আদৌ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে আছে? যেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছেন, সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা কতটুকু সফল হবেন।
ছাত্রলীগের এখনকার বেসামাল পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সভাপতি আল-নাহিয়ান খান
জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সংগঠনটির
অনেক নেতা। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের তৎকালীন
শীর্ষ নেতৃত্বকে অব্যাহতি দিয়ে এ দুই নেতাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ
সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁদের 'ভারমুক্ত' করা হলেও ঝামেলামুক্ত হয়নি
ছাত্রলীগ। স্বেচ্ছাচারিতা, কেন্দ্রীয় নেতাদের অবমূল্যায়ন, পদ-বাণিজ্য,
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির কলেবর অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো, বিবাহিত,
চাঁদাবাজ, মাদকসেবী, ছাত্রদল-শিবিরকর্মীদের কমিটিতে আনা, মেয়াদ শেষ হলেও পদ
আঁকড়ে থাকাসহ নানা অভিযোগে এখন টালমাটাল ছাত্রলীগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে
সাম্প্রতিক কালে সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটে দুর্বল নেতৃত্ব আনা, তাদের মধ্যে
সমন্বয় করতে ব্যর্থ হওয়া, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি না দেওয়া এবং
বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।
এ প্রসঙ্গে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন
খান বলেন, ছাত্র রাজনীতির মান নির্ধারিত হয় জাতীয় রাজনীতির গুণগত মানের ওপর
ভিত্তি করে। জাতীয় রাজনীতির মানের প্রকাশ ঘটে ছাত্র রাজনীতিতে। বর্তমানে
ছাত্রলীগে যা চলছে, তা অপরাজনীতি। এখানে কারও কাছেই কারও জবাবদিহির ব্যাপার
নেই। যে মারামারি করতে পারে, ভিন্নমতকে দমন করতে পারে তাদেরই পদ দেওয়া হয়।
যোগ্য ব্যক্তি পদ পায় না। এটা সুস্থ রাজনীতির চর্চা নয়, অপরাধী বানানোর
চর্চা।
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা :ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসও ছাত্রলীগের বিরোধ ঘিরে অশান্ত। ৩ সেপ্টেম্বর এক কর্মীকে মারধরের ঘটনায় ওই কলেজের উত্তর ব্লক ও দক্ষিণ ব্লকের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ম্ফোরণ, প্রকাশ্যে দেশি অস্ত্র হাতে নেতাকর্মীদের দেখা যায়। এর আগে গত ৩০ মার্চ তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পাশের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। এর কিছুদিন পর ১৯ এপ্রিল নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই দোকান কর্মচারী নিহত হন। সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী অধিকাংশই ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় অনেকটা লাগামহীন কেন্দ্রের আওতায় থাকা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিট। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপভিত্তিক রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাসে নিজের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে হরহামেশাই।
এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর ইব্রাহিম ফরাজিকে সভাপতি ও আখতার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের নতুন কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে নতুন কমিটির শীর্ষ নেতারা মারধর, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ায়। এসব অভিযোগে ছয় মাস না যেতেই গত ১ জুন ওই কমিটি স্থগিত করা হয়। তবু দমানো যাচ্ছে না স্থগিত কমিটির নেতাদের। কিছুদিন আগে এই কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির চাঁদাবাজির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সমকালে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। এর তিন বছর পর গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে চবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১৫১ জনের কমিটি গঠনের কথা থাকলেও চবিতে দেওয়া হয় ৪২৫ জনের কমিটি। যাতে সহসভাপতি আছেন ১১৮ জন। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতারা ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গেল দুই মাসে তিন দাবিতে চবিতে দু'বার শাটল ও শিক্ষক বাস আটকে অবরোধ করেছে ক্যাম্পাসে বিবদমান ছাত্রলীগের সাত গ্রুপের নেতাকর্মীরা। দু'বারের অবরোধ প্রায় ২২টি পরীক্ষা স্থগিত হয়, বন্ধ হয় শতাধিক ক্লাস। এ ছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মূল ফটকে তালা ও অবরোধ করে কয়েকবার।
গত ১ ও ২ আগস্ট চবি ছাত্রলীগের 'বিজয়' গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাটল বন্ধ রাখতে চালককে তুলে নিয়ে চার ঘণ্টা আটকে রাখেন। দু'দিন পর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নির্দেশে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। পরে 'ভার্সিটি এক্সপ্রেস', 'কনকর্ড', 'বাংলার মুখ', 'রেড সিগন্যাল', 'উল্ক্কা' ও 'এপিটাফ'- এই ছয় গ্রুপ একজোট হয়ে সেপ্টেম্বরজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দাবিতে নানা কর্মসূচি করতে থাকে। ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে অবরোধে নামেন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেও গত সোমবার 'বিজয়' ও 'সিএফসি' গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি না দেওয়ায় ছাত্রলীগ সেখানে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহর-নগরেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড :?শিবির-ছাত্রদল কর্মী, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। এতে সাকিবুল ইসলাম রানাকে সভাপতি ও জাকির হোসেন অমিকে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি রানার বিরুদ্ধে অতীতে শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সংশ্নিষ্টতাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। সাধারণ সম্পাদকের নামেও আছে বিস্তর অভিযোগ। সমকালে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে ওই কমিটির সদস্যরাই অভিযুক্তদের টাকায় 'আমোদ-ফুর্তি' করে তদন্ত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গত ২৪ জুলাই রাতে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে ওই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি পক্ষ তৈরি হয়। পরে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পদধারী ও পদবঞ্চিতদের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পরদিন এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত করে জেলা আওয়ামী লীগ।
ছাত্রলীগকে আপন পথে ফেরাতে হয়েছে অনেক চেষ্টা :২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের পর থেকেই ছাত্রলীগের এ বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের সূচনা। সংগঠনটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠন, কখনও নিজেদের মধ্যে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাবি শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিকের নিহত হওয়ার ঘটনাটি সারাদেশে হৈচৈ ফেলে।
ছাত্রলীগের এমন বেসামাল আচরণে ওই সময় চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরদিনই ৩০ ডিসেম্বর এবং পরে ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা ছাত্রলীগ নেতাদের এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন তিনি। পরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও ছাত্রলীগের উদ্দেশে দফায় দফায় কঠোর হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের দিয়ে কমিটিও করে দেন। এর আগেও ছাত্রলীগকে আপন পথে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা। বয়সের বাধ্যবাধকতাসহ নিয়মিত ছাত্রদের হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব তুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল সরাসরি ভোটে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব নির্বাচনের পদক্ষেপ নেন। পরে সেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ ওঠাসহ সারাদেশে সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদসহ অব্যাহত টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদই ছেড়ে দেন শেখ হাসিনা।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওবায়দুল কাদেরসহ দল ও সরকারের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীরাও একই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তবে এত হুঁশিয়ারি আর হুমকি-ধমকির পরও ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড দমানো যাচ্ছে না। এসব ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে সরকারের সাফল্যের অনেকটা ম্লান হলেও বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন নেতাকর্মীকে সংগঠন থেকে বহিস্কার কিংবা গ্রেপ্তার ছাড়া এই দীর্ঘ সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যত তেমন পদক্ষেপও দেখা যায়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে বেশ আগেই ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এখন ছাত্রলীগের সব কার্যক্রমের দেখভাল করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা।
দলীয় নেতারা কী বলছেন :এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, 'আমরা ছাত্রজীবনে একটা আদর্শ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। সেই লক্ষ্য ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করা। আমরা সেটা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মধ্যে মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। আমাদের সময় ছাত্র রাজনীতি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যত পরিবর্তন হয়েছে, তার সবটাই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সেই আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ।'
ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ছাত্রলীগের এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। শুধু এটুকুই বলি, ছাত্ররা একটা আদর্শ নিয়ে চলুক, এটাই আমার কামনা।
আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি বলেন, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে কিছু ঘটনা ঘটেছে। আসলে আমরা ৩০ বছর আগে ছাত্রলীগ ছাড়লেও এখন যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেটি আমাদের জন্য বিব্রতকর। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই আমার প্রত্যাশা।
তবে সংগঠনের বেসামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ
অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, দু-একটি
বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও ছাত্রলীগের সব কর্মকাণ্ডই নিয়ন্ত্রণে আছে এবং
সুষ্ঠুভাবেই সংগঠন চলছে। আগের পরিস্থিতির সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতি তুলনা
করলেই এটা পরিস্কার বোঝা যাবে।'