ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমস

কাবাডিতে জাপান ধাক্কা

কাবাডিতে জাপান ধাক্কা
×

ছবি- সমকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক, নাগোয়া, জাপান থেকে

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:২৩ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০১

বলতে গেলে গ্যালারির পুরোটাই জাপানিদের দখলে। স্বাগতিক দর্শকদের চিৎকারে টোকাই সিটিজেন জিমন্যাশিয়ামে কান পাতায় দায়। আক্রমনাত্নক জাপানের বিপক্ষে বারবার ভুল করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পয়েন্ট আদায় করা বা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে কোনোটিই ঠিকমতো করতে না পারার খেসারত দিতে হলো বাংলাদেশ দলকে। 

এশিয়ান গেমস কাবাডিতে জাপানের কাছে ৪০–৩৭ পয়েন্টে হেরে পদকের স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেয়েছে লাল সবুজের দলটি। বাস্তবতায় এখন পদক জেতাটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে গেলো। গ্রুপে বাংলাদেশকে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতকে হারাতেই হবে; যা অনেকটা অসম্ভব। শুধু ভারতকে হারাতেই হবে না অন্য ম্যাচের ফলও দেখতে হবে।

২০১৮ এশিয়ান গেমসের রুপা জেতা দক্ষিন কোরিয়াকে হারিয়ে সোমবার কাবাডিতে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। সেদিন সন্ধ্যায় মিজানুর রহমান–আল আমিনরা চাইনিজ তাইপেকে হারালে ২০ বছর পর ছেলেদের কাবাডি থেকে পদকের সম্ভাবনা জাগে। জাপানকে হারালে নিশ্চিত হতো সেমিফাইনাল। তাতে ব্রোঞ্জ পদকটি নিশ্চিত হতো। কিন্তু সূর্যোদয়ের দেশটি যে বাংলাদেশের জাতীয় এই খেলাটি ভালোভাবে রপ্ত করেছেন, তা হয়তো আব্দুল জলিলের শীষ্যরা জানতো না। তাইপেকে হারানোর পর যেভাবে উদযাপন করেছে তাতে মনে হয়েছে পদকটি আগেই জিতে গেছে। কিন্তু এই জাপানকে কোনোমতেই আটকাতে পারছিল না বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। দুই অর্ধ্বে দুটি লোনা আদায় করে নেয় জাপান। তাদের নাম্বার টেইন সুজুকি ছিলেন দুর্দান্ত। বেশিরভাগ রেইড তিনিই নিয়েছেন। তার কৌশলের সঙ্গে পেরে ওঠেননি নাসিরউদ্দিন–রাসেলরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান খেলোয়াড়দের বেশ আত্নবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। ভারতের কাছে আগের ম্যাচে হারলেও তারা ২৪ পয়েন্ট আদায় করে নেয়। বাংলাদেশ হয়তো সেই অংকটা করেনি। জাপানের কাবাডি দলকে পড়তে পারেননি মিজানুর রহমানরা। প্রথমার্ধ্বে বাংলাদেশকে একবার অলআউট করে তারা। একটি লোনাসহ ২২–১৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান। বিরতির পর যেখানে বাংলাদেশের আক্রমনাত্নক হওয়ার কথা, সেখানে আব্দুল জলিলের দল যেন খেই হারিয়ে ফেলে। পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যেভাবে খেলার কথা, বাংলাদেশ তার ছিটেফোটাও করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে জাপান পয়েন্ট আদায় করে নিতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্টের ব্যবধান দশে গিয়ে দাঁড়ায়। 

এই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে একের পর এক ভুল করেন খেলোয়াড়রা। ঠিকমতো রেইড নিতে না পারার সঙ্গে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আটকাতে পারছিল না। জাপানের নামের পাশে যোগ হতে থাকে পয়েন্ট। দ্বিতীয়ার্ধ্বে আবারও অলআউট হয় বাংলাদেশ। জাপান দ্বিতীয় লোনা আদায় করে ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে প্রায় ছিটকে দেয়। তখন জাপান ২৯–১৮তে এগিয়ে যায়। একটু পর সেই ব্য্যবধান গিয়ে আবারও দশে গিয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের শেষ দশ মিনিট বাংলাদেশ চেষ্টা করে পয়েন্ট আদায় করতে। জাপানকে অলআউট করে বোনাস পয়েন্ট পায়। ব্যবধান গিয়ে কমে দাঁড়ায় ৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ জাপান ৩৪–২৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকে। এক মিনিটের মধ্যে দুই পযেন্ট আদায় করে বাংলাদেশ। কিন্তু জাপান ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। সময় ক্ষেপনের চেষ্টা করে তারা। তবে বাংলাদেশ আদায় করে দুই পয়েন্ট। ব্যবধান হয় এক পয়েন্টের;৩৫–৩৪। দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু রেইডার দ্বীপায়ন পয়েন্ট আনতে গিয়ে আউট হয়ে যান। জাপান লিড বাড়িয়ে নেয়। ব্যবধান আবার চার পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়ায়। পয়েন্টের এই গেপ পূরণ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন মিজানুর–রাজুরা। প্রতিপক্ষকে পয়েন্ট উপহার দেন তারা। তাতে শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক জয়ের উচ্ছাসে মেতে ওঠেন জাপানের খেলোয়াড়রা।

আরও পড়ুন

×