ক্রেতার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব দিতে হবে
ডিজিটাল প্রচারণা
রমজান মাস বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ব্র্যান্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য মাসব্যাপী তাদের পণ্যের প্রচারণার সুযোগ করে দেয় রমজান মাস। এ সময় সবাই যখন যার যার মার্কেটিং ক্যাম্পেইন নিয়ে ব্যস্ত, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে, সে সময় ক্রেতাসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভিন্ন কিছু করা অত্যন্ত জরুরি।
অতীত থেকে শিক্ষা
গত বছর ঠিক এই সময়ে সমগ্র বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের ফলে লকডাউনে চলে যায়। এর ফলে সব রকম ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে রমজানের সময় লকডাউনে ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বড় করপোরেট থেকে শুরু করে এসএমই, এজেন্সি এমনকি ফ্রিল্যান্সারদেরও এ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে লকডাউনের ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক ব্যবহারই ছিল ব্যবসায়ীদের এই দুঃসময়ের অন্যতম রক্ষক। বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলো তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি সম্পৃক্ততাও বজায় রাখে। বাংলাদেশ এর আগে কখনও এত দ্রুত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তন দেখেনি। যার ফলে ব্র্যান্ডগুলোর এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চিন্তাভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।
গ্রাহক আচরণে পরিবর্তন
রমজানে গ্রাহকদের চিন্তাধারা এবং ক্রয় আচরণে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এ সময় মুসলিমরা তাদের ঘুম এবং কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনেন, যাতে এ সময় তারা নামাজ পড়া এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে পারেন। এ ছাড়া, রমজানে অনলাইনে মুদি দ্রব্যের পাশাপাশি জামাকাপড় এবং ঘরের সরঞ্জাম ক্রয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ সরকার আরোপিত দ্বিতীয় লকডাউন ঘিরে অনিশ্চয়তার সঙ্গে সঙ্গে বলা যায়, এ বছরও ব্যবসায়ীদের উচিত ডিজিটাল প্র্যাক্টিসের দিকে মনোনিবেশ করা।
ক্রেতার প্রয়োজনীয়তা আমলে রাখা
এইচটিটিপুল প্রকাশিত রমজান মার্কেট বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্র্যান্ডগুলো রমজানের সময় তাদের বিজ্ঞাপন কার্যক্রমে ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করে থাকে। কিন্তু শুধু ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ালেই ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অথবা ব্র্যান্ডকে বাকিদের থেকে ভিন্ন মনে হবে না। ব্যবসায়ীদের উচিত হবে ক্রেতারা কী চান, সে অনুযায়ী তাদের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। ক্রেতারা পণ্য কেনার সময় সবার আগে পণ্যমূল্যের কথা চিন্তা করেন এবং এ কারণেই তারা ফেসবুকে বিভিন্ন অফার খোঁজেন। ইউগভের 'ফেসবুক রমজান এবং ঈদ স্টাডি' অনুযায়ী চারজনের মধ্যে তিনজন ক্রেতা রমজান/ ঈদের কেনাকাটার সময় দামাদামি করতে পছন্দ করেন। তবে ৫৭ শতাংশ ক্রেতার মতে, তারা কেনাকাটার জন্য ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন। বিষয়গুলো মাথায় রেখে ব্র্যান্ডগুলোর উচিত তাদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে আরও ক্রেতাকেন্দ্রিক ও সহজবোধ্য করা। এর ফলে ক্যাম্পেইনগুলো ব্যবসার জন্য আরও ফলপ্রসূ লিড তৈরি করতে পারবে। বিশেষ ছাড় অথবা স্বল্পমূল্য- এ রকম অফার সাধারণত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।
মোবাইলকেন্দ্রিক স্ট্র্যাটেজি
আমাদের প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ান মার্কেট নিয়ে একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাদের মোবাইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৭১ শতাংশের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছায়। যদিও আমাদের কাছে বাংলাদেশ মার্কেট নিয়ে যথাযথ তথ্য নেই; তবে ইন্দোনেশিয়ার ৮৫ শতাংশ মানুষ আমাদের মতোই রোজা পালন করে থাকেন। এই উৎসবমুখর মৌসুমে জনগণ যার যার গ্রামের বাড়ি ছুটে যান এবং এ সময় তাদের মোবাইল ব্যবহারও বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় রমজান ক্যাম্পেইনে ব্যবসায়ীদের সবার থেকে আলাদা থাকার জন্য মোবাইল মার্কেটিং এবং সম্পূর্ণ মোবাইলকেন্দ্রিক স্ট্র্যাটেজি করা অত্যন্ত জরুরি।
সহজলভ্যতার উন্নতি
গত বছর এই সময়ে ডিজিটাল কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশে খুচরা বাজার এবং ই-কমার্সের আকস্মিক উন্নতি হয়। তবে ধারণা করা যায়, ব্র্যান্ডগুলো তাদের ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা পুষ্ট করার আগেই, ক্রেতারা এ মাসে করণীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। সহজলভ্যতা এবং দ্রুত ডেলিভারি সময় বিক্রি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীর জন্য রমজান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ সময় তাদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে লাভজনক। বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে বলা যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সদ্ব্যবহার করে এ সময় সামনে এগিয়ে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন হচ্ছে তার যথার্থ সহায়ক। এর দ্বারা বোঝা যায়, গ্রাহকদের চিন্তাধারা এবং সে অনুযায়ী রমজানে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
কান্ট্রি ডিরেক্টর, এইচটিটিপুল বাংলাদেশ
