ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুদ্রার মজুত লইয়া বিপজ্জনক নিদ্রা

মুদ্রার মজুত লইয়া বিপজ্জনক নিদ্রা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ | ১৭:২৮ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:০৫

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ পরিস্থিতি বিপজ্জনক না হইলেও উদ্বেগের পর্যায়ে চলিয়া গিয়াছে বলিয়া বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যেই পর্যবেক্ষণ তুলিয়া ধরিয়াছেন, উহা আরও অনেকে সমর্থন করিবেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলনে প্রদত্ত তাঁহার এই বক্তব্যও প্রণিধানযোগ্য যে, বর্তমানের মজুত ২১ বিলিয়ন ডলার হইতে বিভিন্ন দায়দেনা পরিশোধ করিলে ‘নিট রিজার্ভ’ ১৮ বিলিয়নে নামিয়া আসিবে। এই পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তাহা বিশেষজ্ঞগণের মতামত এবং সামান্য সরল অঙ্কেই স্পষ্ট হইতে পারে। ২০২১ সালের আগস্ট মাসেও দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াইয়া গিয়াছিল। ওই সময়ের পর হইতে সেই যে ধারাবাহিক পতন শুরু হইল...।

গত দুই বৎসর ধরিয়া প্রতি মাসে যদ্রূপ গড়ে ১০০ কোটি রিজার্ভ হ্রাস পাইয়াছে, তদ্রূপ বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ও ক্রমহ্রাসমান। গত বৎসরও যেইখানে প্রতি মাসে গড়ে ২০০ কোটি ডলার প্রবাসী অর্থাগম হইত; চলতি বৎসরের প্রথম ত্রৈমাসিকে তাহা গড়ে ১৬০ কোটি ডলারের নিম্নে অবস্থান করিতেছে। এমতাবস্থায় চলতি বৎসরের শুরুতে সরকার আন্তর্জাতিক অর্থকড়ি সংস্থা আইএমএফ হইতে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ লইয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে চাহিয়াছিল। জানুয়ারি মাসে প্রায় ৪৮ কোটি ডলারের প্রথম কিস্তি মিলিলেও সংস্থাটির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, সেপ্টেম্বর নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার ন্যূনতম মজুত ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঊর্ধ্বে থাকিতে হইবে। এখন দেখা যাইতেছে, উহা প্রকৃত অর্থে ২১ বিলিয়নও নহে। শর্তের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে বর্তমানে ঢাকা সফররত সংস্থাটির প্রতিনিধি দল আগামী মাসে প্রাপ্য দ্বিতীয় কিস্তির ব্যাপারে কী করিবে, তাহা অজ্ঞাত।

বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের প্রবণতা বিষয়ে জাহিদ হোসেনের অপর একটি বক্তব্য উদ্বেগজনক বটে। তিনি বলিয়াছেন, দেশে যেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ও নির্গমন ঘটিতেছে, উহার প্রকৃত হিসাব মিলিতেছে না। এই ধারণা সত্য হইলে তাহা প্রকৃতই অশনিসংকেত। তিনি বলিতেছেন, ইহা রিজার্ভ হইতে পাচারের আলামত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে উত্থান-পতন ঘটিতেই পারে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য যদি দেশবাসীর সম্মুখে থাকে, তাহা হইলে উহার প্রতিকারমূলক পরামর্শপ্রাপ্তি কঠিন হয় না। সরকার না চাহিলেও অতীতে বিভিন্ন সময়েই অর্থনীতিবিদগণ অযাচিত পরামর্শ দিয়া পরিস্থিতি উত্তরণে সহায়তা করিয়াছেন। কিন্তু প্রকৃত হিসাব গোপন করিবার প্রবণতা জাগ্রত থাকিয়া নিদ্রার ভানের নামান্তর। নিদ্রিত ব্যক্তিকে জাগ্রত করা যায়, কিন্তু যাহারা নিদ্রার ভান করিয়া থাকে, তাহাদের জাগ্রত করিবার উপায় কী?

আরও পড়ুন

×