মুদ্রার মজুত লইয়া বিপজ্জনক নিদ্রা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ পরিস্থিতি বিপজ্জনক না হইলেও উদ্বেগের পর্যায়ে চলিয়া গিয়াছে বলিয়া বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যেই পর্যবেক্ষণ তুলিয়া ধরিয়াছেন, উহা আরও অনেকে সমর্থন করিবেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলনে প্রদত্ত তাঁহার এই বক্তব্যও প্রণিধানযোগ্য যে, বর্তমানের মজুত ২১ বিলিয়ন ডলার হইতে বিভিন্ন দায়দেনা পরিশোধ করিলে ‘নিট রিজার্ভ’ ১৮ বিলিয়নে নামিয়া আসিবে। এই পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তাহা বিশেষজ্ঞগণের মতামত এবং সামান্য সরল অঙ্কেই স্পষ্ট হইতে পারে। ২০২১ সালের আগস্ট মাসেও দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াইয়া গিয়াছিল। ওই সময়ের পর হইতে সেই যে ধারাবাহিক পতন শুরু হইল...।
বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের প্রবণতা বিষয়ে জাহিদ হোসেনের অপর একটি বক্তব্য উদ্বেগজনক বটে। তিনি বলিয়াছেন, দেশে যেই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ও নির্গমন ঘটিতেছে, উহার প্রকৃত হিসাব মিলিতেছে না। এই ধারণা সত্য হইলে তাহা প্রকৃতই অশনিসংকেত। তিনি বলিতেছেন, ইহা রিজার্ভ হইতে পাচারের আলামত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে উত্থান-পতন ঘটিতেই পারে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য যদি দেশবাসীর সম্মুখে থাকে, তাহা হইলে উহার প্রতিকারমূলক পরামর্শপ্রাপ্তি কঠিন হয় না। সরকার না চাহিলেও অতীতে বিভিন্ন সময়েই অর্থনীতিবিদগণ অযাচিত পরামর্শ দিয়া পরিস্থিতি উত্তরণে সহায়তা করিয়াছেন। কিন্তু প্রকৃত হিসাব গোপন করিবার প্রবণতা জাগ্রত থাকিয়া নিদ্রার ভানের নামান্তর। নিদ্রিত ব্যক্তিকে জাগ্রত করা যায়, কিন্তু যাহারা নিদ্রার ভান করিয়া থাকে, তাহাদের জাগ্রত করিবার উপায় কী?
