ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেফাজতে দুইটি মৃত্যু ও মানবাধিকার

হেফাজতে দুইটি মৃত্যু ও মানবাধিকার

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ | ১৭:২৮ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:০৫

হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যদ্রূপ বৃদ্ধি পাইয়াছে, উহা উদ্বেগজনক। সর্বশেষ চট্টগ্রামে দুদকের সাবেক উপপরিচালক মো. শহিদুল্লার মৃত্যু এবং বগুড়ায় ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পরে হাবিবুর রহমান নামে এক আইনজীবীর সহকারীর মৃত্যু সেই উদ্বেগের মাত্রা বাড়াইয়া দিয়াছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রদর্শন না করিয়াই দুদকের কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রহিয়াছে, সাজানো মামলার ঘটনায় পুলিশ কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে দুদকের এই সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করিয়াছে। উপরন্তু তিনি হৃদরোগী হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার ঔষধ লইতেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়াছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও থানায় প্রবেশ করিতে দেওয়া হয় নাই। শেষ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে লইবার কিছুক্ষণ পর তাঁহার মৃত্যু ঘটে। অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও ঔষধ না দিয়া তাঁহার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হইয়াছে এবং তাঁহাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলিয়া দেওয়া হইয়াছে বলিলে অস্বীকার করা যাইবে কি?


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৬ সালে সুস্পষ্টভাবে বলিয়াছিলেন– আটককৃত ব্যক্তির মানবাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করিতে হইবে এবং পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু হইলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা লইতে হইবে। ইতোমধ্যে অবশ্য দুই এএসআইকে প্রত্যাহার করা হইয়াছে এবং গ্রেপ্তারে নিয়মের ব্যত্যয় হইয়াছে কিনা তাহা খতাইয়া দেখিতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করিয়াছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু হইলেও বিচারের দৃষ্টান্ত খুব কম। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, মাত্র এক বছরে ২০২২ সালে কারা হেফাজতে মারা গিয়াছেন ৬৫ জন; গত ১০ বছরে শুধু একটা ঘটনায় শাস্তি হইয়াছে। এই দৃষ্টান্ত মোটেও কাম্য নহে। এই বছরেরই মার্চ মাসে র‍্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়াছিল বটে, কিন্তু হেফাজতে মৃত্যুর মিছিল থামে নাই। বগুড়ার ঘটনায় আইনজীবীর লাশ লইয়া লুকোচুরিতে পরিবারের পক্ষ হইতে সন্দেহ প্রকাশ করা হইয়াছে– হয়তো নির্যাতনে তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে। সমকালের প্রতিবেদন অনুসারে পরিবারের দাবি, ইহার সঙ্গে জমিজমা লইয়া বিরোধ এবং স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতার ইন্ধন থাকিতে পারে।

আরও পড়ুন

×