ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলমুখী হচ্ছে বানিশান্তা যৌনপল্লির শিশুরা

স্কুলমুখী হচ্ছে বানিশান্তা যৌনপল্লির শিশুরা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১৬:৩০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৫:৫৩

দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নে সমাজে উপেক্ষিত ও নিপীড়িত যৌনপল্লির শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
শত বছরেরও আগে মোংলা সমুদ্রবন্দরের পশুর নদীর তীরে গড়ে ওঠা দাকোপের ৯নং বানিশান্তা ইউনিয়নের বানিশান্তা যৌনপল্লি। এ পল্লির যৌনকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাধারণ মানুষের কাছে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। তাদের এ অভিযোগ নানা কারণে কেউই আমলে নেয় না। ফলে মানুষের নানা অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়েও তাদের চলতে হয়। আজ পর্যন্ত কেউ তাদের শিক্ষার আলোর পথ দেখায়নি। এ কারণে তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দাকোপের ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম এ যৌনপল্লির শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে কাজ শুরু করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এ যৌনপল্লিতে অবস্থানরত ৫০ শিশুকে স্কুলগামী করতে তাদের জামাকাপড়, শিক্ষা উপকরণ ও প্রতি মাসে নগদ অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এরই মধ্যে বানিশান্তা যৌনপল্লির শতাধিক মাকে সচেতন করে তাদের শিশুদের স্কুলে লেখাপড়ায় আগ্রহী করতে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে চলছে মা সমাবেশ, আলোচনা সভা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রশিক্ষণ।
যৌনপল্লির শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ইউনিয়নের বানিশান্তা ঢাংমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যৌনপল্লির মায়েদের সমাবেশে তাদের নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি যৌনপল্লির শিশুদের অভিভাবক মায়েদের শিশুদের শিক্ষায় সরকারের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে সব শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। মা সমাবেশে ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ মা সমাবেশে বানিশান্তা যৌনপল্লির শিশুদের মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং তাদের শিশুদের যৌনপল্লিতে না রেখে আশপাশের গ্রামগুলোতে রেখে লেখাপড়া করাতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বানিশান্তা ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায় বলেন, উপজেলা প্রশাসন এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করায় যৌনকর্মীরা তাদের সন্তানদের এখন স্কুলে পাঠাচ্ছেন।
ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ যৌনপল্লিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করে শিশুদের স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এ শিক্ষা লাভের জন্য যৌনপল্লির শিশুদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন বলেন, যৌনপল্লিতে শতভাগ শিক্ষা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন

×