ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরাসরি সম্প্রচারের যুগে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র

সরাসরি সম্প্রচারের যুগে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২১ | ১৫:১৫ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:০০

সরাসরি সম্প্রচারের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্র। যাত্রা শুরুর ২৫ বছর পর গতকাল ৭ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল এই টেলিভিশন কেন্দ্র।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, 'সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের জন্য একটি অনন্য ঘটনা। আমরা স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করলাম, সামনে সংগীতানুষ্ঠান, সংবাদপত্রবিষয়ক অনুষ্ঠানও সরাসরি সম্প্রচারের আওতায় আসবে। আপাতত সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। শিগগিরই সেই আওতা বাড়ানো হবে।'
জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য আরও বলেন, '২৫ বছর আগে চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র শুরু হয়েছিল মাত্র দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠান দিয়ে। আমি যোগদান করার পর সেটা প্রথমে ১২ ঘণ্টা ও পরে ১৮ ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে। রজতজয়ন্তীর বছরে শুরু হলো সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রমও। এটা বড় এক অর্জন বলে আমি মনে করি।'
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। উন্নতি হয়েছে পরিবেশ-প্রতিবেশেরও। আগে টেলিভিশন কেন্দ্রের অপূর্ব হৃদটি অনেকটা বদ্ধ ডোবায় পরিণত হয়েছিল। বর্তমান জিএম যোগদান করার পর তিনি সিটি করপোরেশনের মেয়রের মাধ্যমে এই হ্রদের সংস্কার করেন। এখন এই হ্রদ অনেকটা বিনোদনকেন্দ্র। এ ছাড়া টেলিভিশন কেন্দ্রে একটি নান্দনিক ফোয়ারা তৈরি করেছি, ওয়াকওয়ে হয়েছে।
আগে ঢাকার অতিথি আসলে তাদের থাকার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের রেস্ট হাউসে ধরনা দিতে হতো। এখন চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের নিজস্ব রেস্ট হাউস হয়েছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র অসাধারণ অনেক অনুষ্ঠান করেছে। ফটো কর্নার করা হয়েছে, নিচে নাটকের জন্য কিছু নান্দনিক স্টুডিও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রে দেশের সবচেয়ে উঁচু একটি টাওয়ার হয়েছে, এটির উচ্চতা ১৩৩ দশমিক ৫ মিটার। এটি শুধু নান্দনিকই নয়, এই টাওয়ার দিয়ে ১২টি কেবল চ্যানেল ও ২টি টেরিস্ট্রিটিয়াল চ্যানেল চালানো যায়। টাওয়ারের পাশে একটি ট্রান্সমিশন বসানো হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর এই ট্রান্সমিশন দিয়ে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ টিভি ও চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র সম্প্রচার করা হচ্ছে। এই অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরুর পর চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ছিল মাত্র দেড় ঘণ্টা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তা ছয় ঘণ্টা হয়। এর আট মাস পর আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় অনুষ্ঠানের সময় ৬ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টায় উত্তীর্ণ হয়। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি ১২ ঘণ্টা হয়। চলতি বছরে তা ১৮ ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে।
সংশ্নিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বড় একটা অর্জন হলো জাতীয় স্কুল টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় দেশের সব জায়গার প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। জাতীয় কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতাও হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজনেও এসেছে বৈচিত্র্য। স্থানীয় নাট্যদলের অভিনীত ৫০টির মতো মঞ্চনাটক প্রচার করা হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ৯টা থেকে ইংরেজি বুলেটিন প্রচার করা হচ্ছে।
তবে কিছু বিষয় নিয়ে হাতাশা প্রকাশ করলেন জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'আমি আমার ফেসবুকে কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সংশ্নিষ্ট পোস্ট দিই। যাতে অনুষ্ঠানগুলোর প্রচার-প্রসার হয়। অথচ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান নিয়ে পোস্ট দিতে গিয়ে আমি দুটি আইডি হারিয়েছি। একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার আইডিগুলোতে ক্রমাগতভাবে রিপোর্ট করতে থাকে। সে নিয়ে আমার দুঃখ নেই। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের একটি ফেসবুক পেজ ছিল। সেখানেও ওই চক্রটি ক্রমাগতভাবে রিপোর্ট করে। ফলে সেই আইডিটিও হারাতে হয়েছে। অথচ ওই পেজের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের প্রচার-প্রচারের কাজগুলো করা হতো। কিন্তু চক্রটির তাও সহ্য হয় না। সম্ভবত তাতে তাদের স্বার্থে ঘা লাগে। এ কারণে ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধেও তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমি মনে করি এটা বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।'

আরও পড়ুন

×