হাটহাজারীতে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি নিশ্চিতে গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দপত্রে এক জায়গার নলকূপ অন্য জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেকের কাছ থেকে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি পরিচয়ে ১০ হাজার ২০০ টাকার স্থলে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নলকূপ স্থাপনে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনে ফতেপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার প্রবাসী মো. আবু তাহেরের পক্ষে লাকী আক্তার উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ধলই ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মো. আবুল মনছুর বলেন, ‘নলকূপ পেয়ে সবাই খুশিতে টাকা দিয়ে দিচ্ছে। তবে এমপির কোটায় বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। পিতার নাম গোপন করে এক জায়গার বরাদ্দকৃত নলকূপ অন্য জায়গায় স্থাপনের অভিযোগও রয়েছে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১১ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭২৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপের ৫০ শতাংশের স্থান নির্বাচন করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বাকি ৫০ শতাংশ স্থান নির্বাচন করবে ইউনিয়ন ওয়াটসন কমিটি।
জানা যায়, সরকারি নিয়ম হলো, প্রতিটি নলকূপের বিপরীতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের সোনালী ব্যাংকের চালানের মাধ্যমে ১০ হাজার ২০০ টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু দালাল চক্রের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। দেওয়া হচ্ছে না বৈদ্যুতিক বিল। আবার নলকূপ স্থাপনে নিয়োজিত শ্রমিকদের খাওয়া খরচসহ নানা অজুহাতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার চিকনদন্ডি ইউনিয়ন এলাকার মৃত নুরুল আমিনের ছেলে মো. রাসেল জানান, তার বাড়িতে নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি ফি ছাড়াও নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত টাকা।
এদিকে, নলকূপ স্থাপনের বিপরীতে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনে লাকী আক্তার উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, নলকূপ স্থাপনের জন্য তার কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নিয়েছেন তারই দেবর বাদশা। তিনি এমপি সাহেবের প্রতিনিধি সৈয়দ আবুল কালামকে এই টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছিলেন।
লাকী আক্তার বলেন, ‘নলকূপ স্থাপনের পর জানতে পারি সরকারি ফি মাত্র ১০ হাজার ২০০ টাকা। অথচ আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি উপজেলায় একটা লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। টাকাও ফেরত পাইনি।’
সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি অভিযুক্ত সৈয়দ মো. আবুল কালাম বলেন, ‘ওই মহিলার কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নিইনি। আমার নাম বিক্রি করে অন্যজনে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি।’ এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মোহাম্মদ আনোয়ারকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসাইনি এ ব্যাপারে বলেন, ‘গভীর নলকূপ স্থাপনে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। কেউ যদি দালালদের টাকা দেয় সেটা আমরা কীভাবে জানব?’ তিনি আরও বলেন, ‘এক মহিলার অভিযোগ পেয়েছিলাম। বিষয়টি আমি এমপি স্যারকে জানিয়েছিলাম। স্যারের চাচা আলী আকবর হায়দার চৌধুরী বিষয়টির সমাধান করার কথা। পরে ওই মহিলা আর যোগাযোগ করেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী, বায়োজিদ-আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপিকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী সৈয়দ মনজুরুল আলম বলেন, ‘নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে দালালচক্র নির্মূল করতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখে।’