'আমার নামে কোনো মামলা নাই স্যার। আমারে নিতাছেন ক্যান? আমারে হাতকড়া পরাইয়েন না। আমি কোনো অপরাধ করি নাই।' চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের এমন আকুতিও পুলিশ কর্মকর্তার কানে পৌঁছেনি। চা বিক্রির সময় মানুষের সামনে নিরপরাধ রফিকুল ইসলামকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার বিকেলে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের মসজিদ মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় চার দিন ধরে জেল খাটছেন তিনি।

জানা যায়, লাইসেন্সবিহীন করাতকলে গজারি গাছ চেরাই করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শ্রীপুর সদর বিট অফিসার সহিদুর রহমান কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের বেগুন বাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এ মামলায় রফিকুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সেই পরোয়ানা শ্রীপুর থানায় পাঠানো হয়। তবে মামলার মূল আসামি করাতকল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে না পেয়ে চা বিক্রেতা  রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার লোকজন বারবার বিষয়টি বলার পরও চা বিক্রেতা রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। রফিকও এ সময় কান্নাকাটি করে বলছিলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা কফিল সে কথা না শুনেই তাকে নিয়ে যান।

মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি করাতকলের ব্যবসা করেন। ওই মামলাটি তার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল। তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। শ্রীপুর পৌর মেয়র মো. আনিছুর রহমান বলেন, পুলিশের ভুলের কারণে নিরপরাধ একটা মানুষ জেল খাটছেন। এর দায় কে নেবে? শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন বলেন, চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় থানায় রাখা হয়। তখন কেউ ব্যাপারটি জানাননি। ওসি মো. লিয়াকত আলী বলেন, মামলাটি আদালতে দায়ের করা। দু'জনের নাম ও বাবার নাম একই- এ কারণে হয়তো ভুল হয়েছে।