ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

এমভি আবদুল্লাহ

‘কালা ভুনা’ পছন্দ আতিকুল্লাহর, ‘বিরিয়ানি’ পছন্দ আইনুলের 

৬২ দিন পর ঘরে ফিরলেন নাবিকরা

‘কালা ভুনা’ পছন্দ আতিকুল্লাহর, ‘বিরিয়ানি’ পছন্দ আইনুলের 

স্বামীর পছন্দ অনুযায়ী খাবারগুলো রান্না করেছেন চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের স্ত্রী মিনা আজমিন ও কেক বানিয়েছেন জেনারেল স্টুয়ার্ড নুরউদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস- সমকাল

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ২৩:০০ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৪ | ২৩:১৬

ঘরে ফিরেছেন জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রিয়তম স্বামী নুরউদ্দিন। পাশের কর্ণফুলী উপজেলাতেই তাদের বাড়ি। একই দিনে ঘরে ফিরেছেন জোৎস্না বেগমের আদরের সন্তান তানভীর আহমেদ। জিম্মি হওয়ার ৬২ দিন পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন মিনা আজমিনের স্বামী আতিকুল্লাহ খানও। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে আজ রাতেই পরিবারের কাছে ফিরেছেন তারা। নাবিকদের বরণ করতে তাই পছন্দের খাবার রেঁধেছেন তাদের স্বজনরা। খাবারের মেন্যুতে পছন্দের জিনিস দেখে আপ্লুত আজ নাবিকরাও।

‘ঈদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু এবারের ঈদ বিষাদময় ছিল আমাদের কাছে। স্বামী জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকলে ঈদের আনন্দ তো আর থাকে না মনে। আমাদের ঘরে ঈদ এসেছে আজ মঙ্গলবার। আমরা তাই সেমাই রেঁধেছি। রেঁধেছি গরুর মাংসের কালা ভুনা। করেছি পুঁটি মাছের ফ্রাইও। এসব খুব পছন্দ করে আতিকুল্লাহ’- মঙ্গলবার রাতে পছন্দের এসব খাবার দিয়েই স্বামী আতিকুল্লাহকে বরণ করার কথা বললেন তার স্ত্রী মিনা আজমিন। জিম্মি ঘটনার ৬২ দিন পর বাড়ি ফেরা ২৩ নাবিকের একজন আতিকুল্লাহ খান। তিনি এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা।

শুধু আতিকুল্লাহর স্ত্রী নন; জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে আসা সেই ২৩ নাবিকের অন্য স্বজনরাও নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা। সোমবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করেছে ২৩ নাবিকসহ জিম্মি হওয়া সেই এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বন্দরের এনসিটি জেটিতে তাদের বরণ করেছেন স্বজনরা। নাবিকরা তীরে আসলে জেটিতে গিয়েই তাদের বরণ করেন স্বজনদের অনেকে। সন্ধ্যাই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন নাবিকদের সবাই।

কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিম বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল দুবাই থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা জাহাজটি সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করেছিল। মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজে থাকা নাবিকদের এনসিটি জেটিতে নামানো হয়। সেখান থেকে তারা যার যার বাড়িতে ফিরে গেছে।'

নাবিকদের এই ফেরাকে উদযাপন করতে সবাই তাদের পছন্দের খাবার রেঁধেছে বাড়িতে। স্বামী নুরউদ্দিনের জন্য দুই রকমের কেক বানিয়েছেন তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। জেনারেল স্টুয়ার্ড নুরউদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘গরুর মাংস খুব পছন্দ করেন নুরউদ্দিন। পছন্দ করে আমার হাতে বানানো কেকও। এই দুই খাবারের অনেক রকম মেন্যু রেখেছি মঙ্গলবার রাতে। রান্না করবো বিভিন্ন পদের সেমাই ও পায়েস। এবারের ঈদে সেমাইও রান্না করিনি আমরা। ও ঘরে আসলেই ঈদের আনন্দ করবো। কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে করবো ঈদের শপিংও।’

একইভাবে জাহাজের চতুর্থ প্রকোশলী তানভীর আহমেদের জন্য তার মা জোৎস্না বেগম রেঁধেছেন সেমাই। জোৎস্না বেগম বলেন, ‘ছেলে না থাকায় এবার ঈদে সেমাইও খাইনি আমরা। আজ সে ফিরেছে বলে ঈদের আনন্দ আমাদের ঘরে। রেঁধেছি তাই সেমাই।’ অন্যদিকে নাবিক আয়নুলের মা বলেন, ‘ আমার ছেলের পছন্দের খাবার বিরানী। তাই সেটিই রান্না করেছি আজ ঘরে।’

আরও পড়ুন

×